আজ থেকে এই রাশির ভাগ্য খুলতে চলেছে ! জেনে নিন কোন কোন রাশির

kemon katbe ajker din jene nin jotish
RashiFoL
Advertisement

শ্রী দেবার্পন: আজ থেকে জ্যোতিষ বিভাগে নবগ্রহের কাজ তাদের শুভ ও অশুভ প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। প্রত্যেকটি গ্রহ আমাদের মানবজীবনে কিভাবে প্রভাব বিস্তার করে এবং তার ফলে আমরা কি কি সুবিধা অসুবিধা ভোগ করি সেই নিয়েই আজ থেকে শুরু হবে আলোচনা। নবগ্রহ বলতে আমরা বুঝি – রবি, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি, রাহু ও কেতু। আরো দুটি গ্রহ আছে ইউরেনাস, নেপচুন ও প্লুটো। কিন্তু এদের দূরত্ব বেশি হওয়ায় মানবজীবনে তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনা।

তাই আজ শুরু করবো রবিগ্রহ নিয়ে আলোচনার প্রথম পর্ব :-

রবি: রবি হলো সৌরমণ্ডলের কেন্দ্রবিন্দু। রবির শক্তি বা তেজেই সৌরমণ্ডলের সব গ্রহ ও উপগ্রহ ভাস্বর। কোনো গ্রহ বা উপগ্রহের নিজস্ব এল নেই , তারা সকলেই সেই রবির আলোকে আলোকিত।

ভৃগুসংহিতা এই কথা মানলেও আমরা দেখতে পাই বিভিন্ন গ্রহের একটা আলো আছে। তাদের রং আছে। যেমন মঙ্গলের রং লাল, পৃথিবীর সবুজ ইত্যাদি। গ্রহ উপগ্রহদের আমরা আলোকিত দেখি। কিন্তু এগুলি তাদের আলো নয়। সূর্যের আলো গ্রহ উপগ্রহদের উপরে পড়ে তারা আলোকিত হয়। আমরা পৃথিবী থেকে তাদের আলোকিত দেখি।

আরও পড়ুনঃ ভক্তি ভরে মায়ের পুজো করলে জীবনে নেমে আসবে সুখের ছায়া

এখন সূর্যের আলোর মতো গ্রহদের আলোও বিভিন্ন প্রাণী বা জীবের দেহে পড়ে ক্রিয়া করে। রবির স্বভাব উচ্চ। রবি তেজদাতা ও তেজোময়। সে সবসময় যোগায় উদ্দীপনা ও তেজ। রবি সব গ্রহদের কেন্দ্রবিন্দু বলে যার উপর রবির কুপ্রভাব দেখা যায় তার জীবন হয় তেজহীন ও অন্ধকার। জাতকের রবি যদি হয় নিম্নস্থ তাহলে তার জীবনে উন্নতির পথ অবরুদ্ধ। তার জীবনে উন্নতি নেই। সে সর্বদা বিমর্ষ। অন্য গ্রহ শুভ হলে কোনোরকমে দিন কেটে যায়। তবে উচ্চ কোনো স্থান লাভ সম্ভব হয়না।

সাধারণত প্রতি রাশিতে রবি একমাস করে অবস্থান করে। যেমন বৈশাখে মেষে, জৈষ্ঠে বৃষে, এবং সবশেষে চৈত্রে মীনে। শীতকালে যাদের জন্ম হয় তাদের রবির প্রভাব কম পড়ে। শীতে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। আবার বৈশাখ, জৈষ্ঠে তাদের রবির প্রভাব বেশি পড়ে – কারণ তখন রবি পৃথিবীর নিকটে থাকে।

তবে একটা কথা, জন্মকুণ্ডলীতে রবির যা কাজ বা প্রভাব -সঞ্চারকালে তার প্রভাব কম হবে। কারণ একরাশিতে রবি ১মাস থাকে তাই শুভ বা অশুভ ফল দেবার ক্ষমতা দেখাবার সময় রবি বিশেষ পাননা।

আরও পড়ুনঃ সাতটি জিনিস যা আপনার সংসারকে সমস্ত বিপদ থেকে মুক্ত রাখবে

রবির পক্ষে শুভ রং বা বর্ণ হলো উজ্জ্বল লাল বা জবাফুলের মতো লাল। রবির শুভ রত্ন হলো মানিক বা মানিক্য অথবা চুনী। প্রকৃত মানিক দুর্লভ- তাই চূণীকেই রবির শ্রেষ্ঠ রত্ন বলা হয়।

রবি নীচস্থ হলে জাতকের জীবনে উন্নতি, সুনাম, অন্যের উপর প্রভাব বিস্তার, সৎকর্ম, সৎচিন্তা, সৎভাব, উন্নতি প্রভৃতি গুন্ হতে ব্যাহত হয়। আবার নীচস্থ রবির প্রভাবে জাতকের সর্দি,কাশি,বুকের রোগ,মাথার রোগ প্রভৃতি নানা উপসর্গ দেখা দেয়।

রবি উচ্চস্থ হলে দেহে বেশি তাপ অনুভব করে থাকে। তবে তা সত্ত্বেও জীবনে যশ,মান,সম্মান,রাজপদ,সৎকর্ম,লাভ,দানশীলতা,পবিত্রতা,নিষ্ঠা,কোনো কাজে দৃঢ়ভাবে লেগে থাকা প্রভৃতি গুন্ দেখা যায়।

আরও পড়ুনঃ জীবন খুশিতে ভরে ওঠে কালীঘাটের আনন্দময়ী মায়ের করুণায়…

অশুভ রবির প্রভাবে জাতকের জীবনে মিথ্যা দুর্নাম, চৌর্য অপবাদ, কুখ্যাতি প্রভৃতি আসতে পারে। পদে পদে জীবনের উন্নতিতে বাধা আসে। বহু চেষ্টা করেও বা জ্ঞান অর্জন করেও জীবনে সে কিছু করে উঠতে পারেনা। বরং তার জীবনে নানা বদনাম শুনতে হয়।

রবির ক্ষমতা যে সব গ্রহ নষ্ট করে তার মধ্যে সর্বপ্রধান হলো রাহু। যদি একই ঘরে থাকে তাহলে রবি শুভভাবে থালেও তার শুভফল অনেকাংশে হ্রাস কর এই রাহু। তার ফলে জাতকের জীবনে উন্নতি বাধাপ্রাপ্ত হয়।

আরও পড়ুনঃ দুর্গা প্রতিমা গড়তে বেশ্যালয়ের মাটি অপরিহার্য কেন?

রবি শুভ হলে সরকারি চাকরি, উচ্চপদলাভ, লোন, প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর, নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতা বড়ো উকিল, ডাক্তার প্রভৃতি কর্মে লাটোক লিপ্ত হতে পারে।

  • শুভ সংখ্যা- ১,৪ – প্রিয় বর্ণ-স্বর্ণ, তাম্রবর্ণ লালচে।
  • প্রিয় রত্ন- চুনী বা সূর্যকান্ত মনি। উপরত্ন- গারনেট, রুবিষ্টার।
  • প্রিয় ধাতু – তামা ও সোনা।
Advertisement