সুজাতা মন্ডলকে আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের উপর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করল তৃণমূল

নিজস্ব প্রতিবেদন: ভোট মুখী বাংলায় নির্বাচন যুদ্ধের দামামা বেজে গিয়েছে ইতিমধ্যেই।প্রথম এবং দ্বিতীয় দফার ভোটের পর আজ তৃতীয় দফার ভোট গ্রহণ বেশ অস্থিরতার সঙ্গেই সম্পন্ন করা হয়েছে। সকাল থেকেই ভোট শুরু হওয়ার পর বিক্ষিপ্তভাবে নানান জায়গাতে আক্রমণ শুরু হয় তৃণমূল কর্মীদের উপর।এমনকি বেশ কয়েকটি জায়গায় ইভিএম মেশিন হ্যাক করার পাশাপাশি তৃণমূল প্রার্থীদের মারধর পর্যন্ত করা হয়। এরইমধ্যে খানাকুলের হেভিওয়েট তৃণমূল প্রার্থী সুজাতা মন্ডলকে বাঁশ দিয়ে রীতিমত তাড়া করেন গ্রামবাসীরা। কোনরকমে জমির মধ্য দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচান সুজাতা। এমনকি সুজাতার একজন এজেন্টকে মারধর পর্যন্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ বিজেপি কর্মীর মৃত্যুতে চাঞ্চল্য দুবরাজপুরে নেপথ্যে তৃণমূল, অভিযোগ বিজেপির

প্রথমে কিছু না বললেও সংবাদমাধ্যমে পরে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এই ঘটনায় সম্পূর্ণরূপে বিজেপিকে অভিযুক্ত করেন সুজাতা মন্ডল।প্রসঙ্গত স্থানীয় এলাকার বেশ কয়েকটি বুথের তৃণমূলে ভোট দেওয়া সত্বেও বিজেপির কাছে ভোট পড়ছিল এমন অভিযোগ শুনতে পান তিনি। এমতাবস্থায় সেই বুথ কেন্দ্রগুলিতে পরিদর্শনে গেলে হঠাৎ করেই তার উপর আক্রমণ করেন কিছু গ্রামবাসীরা। যদিও সুজাতার দাবি তারা কেউ গ্রামবাসী ছিলেন না। স্থানীয় বিজেপি কর্মী এবং বহিরাগতরাই তার উপর আক্রমণ চালিয়েছেন।কিন্তু অপরদিকে গ্রামবাসীদের মন্তব্য দেখতে গেলে জানা যায়, এক নববধূকে হেঁসেলে বিব্রত করছিলেন সুজাতা। তাই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে নেত্রীর ওপর আক্রমণ চালাতে বাধ্য হন তারা।

আরও পড়ুনঃ সিঁথিতে সিঁদুর লাগিয়ে বিকৃত করা হলো মুখ্যমন্ত্রীর ছবি, বাড়ছে রাজনৈতিক তরজা

যাইহোক এই ঘটনার জেরে ইতিমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি।সম্পূর্ণ ঘটনায় বিজেপিকে দোষী সাব্যস্ত করে নির্বাচন কমিশনের উপর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ জানিয়েছে ঘাসফুল শিবির।তাদের দাবি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে ভোটারদের প্রভাবিত করার পাশাপাশি যেনতেন প্রকারে বাংলায় জয়লাভ করার জন্য এই ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এমতাবস্থায় তাই শেষ পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের সম্মুখীন হয়ে কমিশনকে আক্রমণ করে কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে আরিজ আফতাবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিযোগ জানান ফিরহাদ হাকিম।

আরও পড়ুনঃ দিনের শেষে ঊর্ধ্বমুখী হলো সোনা ও রুপোর দাম, জেনে নিন আজকের বাজার দর

মমতা ঘনিষ্ঠ এই তৃণমূল নেতার কথায়,”কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটারদের বিজেপিকে ভোট দিতে প্রভাবিত করছে”। পাশাপাশি প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ফিরহাদ আরো বলেন, সুজাতা মন্ডল এর মত একজন তৃণমূল প্রার্থীকে আক্রমণ করার পরেও কমিশনের তরফ থেকে কোনো রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাদের ভূমিকা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।যদিও সুজাতার উপর আক্রমণের ঘটনাকে সম্পূর্ণভাবে দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন তার প্রাক্তন স্বামী তথা বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। সৌমিত্র বাবু বলেন,”বছরের পর বছর স্থানীয় মানুষকে ভোট দিতে দেয়নি তৃণমূল। পঞ্চায়েত নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে কিছু জায়গায় নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা গিয়েছিল। সেখানে বিজেপি জিতেছে। লোকসভা নির্বাচনে আরামবাগে মানুষ বিজেপির পক্ষেই ভোট দিয়েছিল। দিনের পর দিন ভোট দিতে না পেরে মানুষের মনে সঞ্চিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়েছে। তৃণমূলের অত্যাচারের জবাব দিচ্ছে সাধারণ মানুষ”।