দিল্লি জুড়ে যেন আকালের স্মৃতি, মৃত্যুর সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি

গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লিতে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৩৬৮ জনের। বৃহস্পতিবার রাজধানীর এক শ্মশানে। ছবি প্রেম সিংহ

কলকাতা হান্ট ডেস্কঃ ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রতিনিয়ত আক্রান্তের সংখ্যা হুহু করে বাড়ছে। অতিমারীর শুরু থেকে রাজধানী শহর দিল্লিতে মৃত্যুর সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি।৩৯৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে গত তিন-চার সপ্তাহে। সূত্রের খবর, এই সংখ্যা শুধুমাত্র নথিভূক্ত সংখ্যা আদতে মৃত্যুর সংখ্যা আরো, অনেক বেশি। রাম পাল ১১ বছর ধরে কাজ করছেন দিল্লির দয়ানন্দ মুক্তিধাম শ্মশানে। তাঁর বক্তব্য,” এই শ্মশানে যেখানে প্রতিদিন ৩০ টি মৃতদেহ দাহ করা যায় সেখানে গত কয়েকদিনে ৪০-৫০ টি ও দাহ করতে হয়েছে বাধ্য হয়ে। যমুনার তীরে দাহকার্য ব্যবস্থা করার জন্য সরকারকে আবেদন জানাচ্ছি। একটি মৃতদেহ দাহ করতে ৩০০ কেজি কাঠ লাগে। এত কাঠের জোগানও বা কোথায় এখন কাঠের থেকে শবদেহ বেশি।

আরও পড়ুনঃ করোনায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হলেন করিনার বাবা রণধীর কাপুর

কয়েকদিন আগে বাড়িতে অক্সিজেনের অভাবে মারা যান সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য, আইনজীবী অনীপ সচতে। তার স্ত্রী এবং কন্যা সকাল ১১টায় শ্মশানে গিয়ে দেখেন ২৫ জনের পরে আছেন। তাদের বক্তব্য,”সারাদিন অপেক্ষা করে অন্যান্য সকল শ্মশানে ফোন করেও শব দাহ হয় মধ্যরাত্রে। কয়েকদিন আগে কবিতা মারা গিয়েছেন দিল্লির বসন্তকুঞ্জের প্রবীণা বাসিন্দা সংঘমিত্রা সেন। কোভিদ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন তাঁর স্বামীও। ছেলে আটকে আছে ব্যাঙ্গালোরে। তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করে যুব কংগ্রেস এবং একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। শ্রুতি সাহা মাকে বাঁচানোর জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে গিয়েছিলেন অক্সিজেন কারখানায় সেখানে সবার হাতে পায়ে পড়ছিলেন দ্রুত অক্সিজেন দেওয়ার জন্য। ফিরে এসে দেখেন তাঁর মা আর নেই।

আরও পড়ুনঃ টানা সাত দিন সোনার দামের পতন! ৯০০০ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

চারিদিকে যখন শ্মশানে ছাই উড়ছে ঠিক সেই সময় গুরুদ্বার সিংহ সভা সিদ্ধান্ত নিলেন ‘অক্সিজেন লঙ্গর’ খোলার। দিল্লি গুরদ্বার কমিটির প্রাক্তন সভাপতি মনজিৎ সিংহ জানিয়েছেন,“দিল্লীবাসীর জন্য হরিয়ানা এবং পাঞ্জাব থেকে অক্সিজেনের যোগান দেওয়া হবে।”কোভিড আক্রান্তদের জন্য অক্সিজেন-এর পাশাপাশি বিনামূল্যে খাবারও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।