মৃত্যুর পর আজও ডিউটি করে চলেছেন লেফটেন্যান্ট যশোবন্ত সিংহ

jaswant singh rawat
ছবিঃ গুগল
Advertisement

মানুষ তার কর্ম বীরত্ব ও দেশপ্রেম দ্বারা দেশবাসীর কাছে চির অমর হয়ে থেকে যায় ঠিক যেমন ভারতীয় সৈন্যদলের যশোবন্ত সিং তার বীরত্বের লড়াইয়ের জন্য আমাদের কাছে চির অমর হয়ে আছেন তার বয়স ছিল 21 অরুণাচল প্রদেশ তাওয়াং সীমান্তের প্রহরায় নিযুক্ত ছিলেন তিনি ১৯৬২ সালে চীন ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।

ঠিক ১৭ই নভেম্বর ভোর পাঁচটা নাগাদ অরুণাচল প্রদেশের ওই অঞ্চলে দুটি চিনা ব্যাটালিয়ান ভারতীয় সেনাকে আক্রমণ করেছিল কিন্তু এটি ছিল চতুর্থ নম্বর যুদ্ধ এর আগে তিন বার আক্রমণ করেছিল চিনা সেনারা। চিনাদের চূড়ান্ত অপমান হিসাবে সর্বশেষ অভিযোগ – তারা তাওয়াংয়ের বুদ্ধ মূর্তির হাত কেটে ফেলেছিল, তবে এবার কিছু আলাদা ছিল। কিন্তু প্রত্যেকবারই সাহসের সাথে লড়াই করে সেই যুদ্ধে মাটি কামড়ে পড়ে ছিল সেই ভারতীয় জওয়ানরা। তাই ভারতের ওই অংশ চিনারা দখল করতে পারেনি।

jaswant singh rawat
ছবিঃ গুগল

আরও পড়ুনঃ

সকাল পাঁচটার দিকে পূর্ব হিমালয়ের উপরে যখন সূর্য ওঠে চীনা সেনারা আরেকটি আক্রমণ চালায়, এবার সেলা শীর্ষের মাধ্যমে – কিছু অন্যরকম ছিল – গারওয়াল রাইফেলসের ডেল্টা সংস্থা বা বিশেষত 4 গারওয়ালের একজন রাইফেলম্যান – যশবন্ত সিং রাওয়াত ছিলেন তাদের পথ।

ভারতীয় বাহিনীর উপর প্রায় ১০০ মিটার দূরত্ব থেকেই মিডিয়াম রেঞ্জের মেশিনগান চালাতে থাকে চীনা সৈন্যরা। চীনাদের মেশিন গানের সামনে তারা তাদের লাইট মেশিন গান চালানোর সুযোগ পায়নি। ইতিমধ্যো ভারতীয় দলের বেশ কয়েকজন শহীদ হয়ে গেছিল। চীনাদের এই ফায়ারিং থামানোর জন্য রণকৌশল বসেছিলেন ভারতীয় সৈন্যদের দায়িত্বে থাকা সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট এস এন টন্ডন।

আরও পড়ুনঃ

jaswant singh
ছবিঃ গুগল

চীনাদের ওপর পাল্টা আক্রমণ করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল তিন জওয়ান লোক সিংহ নেগী, রাইফেলমান গোপাল সিংও রাইফেলম্যান যশবন্ত সিং।  তারা চীনাদের নজর এড়িয়ে তাদের খুব কাছে পৌঁছে যান। গোপাল সিংহ ও যশোবন্ত কে কভার ফায়ার করতে থাকেন লোক সিংহ। তিন চীনা সেনাকে সেনা কে মেরে দিয়ে তাদের মেশিনগান নিয়ে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছিল এই জওয়ানরা।

কিন্তু এ সময়ে গুলির আঘাতে ত্রিলক সিংহের মৃত্যু হয় এবং গোপাল সিংহ আহত হয়ে কোনরকমে তাদের বেস ক্যাম্পে ফিরে আসে এইসময় চীনাদের মেশিনগান ভারতের দখলে থাকায় যুদ্ধের মোর অন্য দিকে ঘুরে যায়।

আরও পড়ুনঃ

দিলীপ সিং এর মৃত্যু হয় এবং গোপাল সিংহ আহত হয়ে ট্রাঞ্চে ফিরে যায় কিন্তু একাই বীরবিক্রমে লড়ে যান রাইফেল যশবন্ত সিংহ। তিনি একাই ৩০০ চিনা সেনাকে মৃত্যুর ঘাটে অবতীর্ণ করেন। কিন্তু বীর পরাক্রমশালী এই জাওয়ান ফিরে আসতে পারেননি। ফেরার আগেই গুলিতে আহত হয়ে আটক হয় চিনা সেনাদের কাছে। এই যুদ্ধের জন্য মহাবীর চক্রে আজও সম্মানিত হন যশোবন্ত সিংহ।

অনেক মানুষই বিশ্বাস করেন যে টানা তিনদিন ধরে চলেছিল এই যুদ্ধ এবং ওই অঞ্চলে থাকা দুটি আদিবাসী মেয়ে সেলা ও নুরা যশোবন্ত কে ভালবাসতেন। যুদ্ধের ওই মুহূর্তে ওই দুই নারী ও তাকে অনেক সাহায্য করেছিলেন এবং জানা যায় ওই দুই নারী ও তার সাথেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

আরও পড়ুনঃ

যেখানে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল সেখানে তারা স্মৃতিসৌধ বানানো রয়েছে এবং সৈন্যদল সৈন্যরা মনে করে যশোবন্ত সিং আওয়াজও তাদেরকে চীনা সৈন্যদের হাত থেকে রক্ষা করে। তার সমস্ত জিনিস কে সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে গুছিয়ে রাখা হয়। কিন্তু শোনা যায় মৃত্যুর পরও নাকি তিনি আজও ডিউটি করেন। প্রতিদিন সকালে তার ঘর অগোছালো হয়ে থাকে, আর তার বুটজোড়াতে লেগে থাকে কাদা। মৃত্যুর পরও তার প্রমোশন হয়েছে। রাইফেলমান থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত হয়েছেন তিনি।

Advertisement