করোনা আক্রান্ত হলেন আলিয়া ভাট

নিজস্ব প্রতিবেদন: অন্যান্য জনপ্রিয় তারকাদের পর এবার শেষমেষ করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়লেন রণবীরের প্রেমিকা তথা অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই তার করোনা আক্রান্ত হওয়া নিয়ে জল্পনা চলছিল।বিশেষত যখন কিছুদিন আগে তার প্রেমিক রণবীর কাপুরের রিপোর্ট পজিটিভ আসে সেই সময়তে আলিয়ারও টেস্ট করানো হয়। সৌভাগ্যবশত সেই সময়ে রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল অভিনেত্রীর। তবে শেষ পর্যন্ত আর সেই সৌভাগ্য বজায় থাকলো না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আপাতত বেশ কয়েকটি ছবির কাজে ব্যস্ত আছেন অভিনেত্রী আলিয়া। এর মধ্যে রয়েছে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘গঙ্গুবাই কাথিয়াওয়াড়ি’,তেলেগু ছবি ‘আরআরআর’, অয়ন মুখোপাধ্যায়ের ‘ব্রম্ভাস্ত্র’। দুটি ছবির ইতিমধ্যেই পোস্টার রিলিজ করা হয়ে গিয়েছে।এই অবস্থায় হঠাৎ করেই অভিনেত্রীর ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার খবরে চিন্তা ছড়িয়ে পড়েছে প্রত্যেকটি ছবির টিম এবং তার অনুরাগীদের মধ্যে। জানিয়ে রাখি কিছুদিন আগেই আলিয়ার প্রেমিক রণবীর করোনা মুক্ত হয়েছিলেন। সেই সময়ে আলিয়ার মা সোনি রাজদানকে বেশ ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল তারকাদের টিকাকরণের দাবিতে। সেই সময়ে শিবরাত্রি থেকে শুরু করে জন্মদিন রণবীরকে ছাড়াই কাটিয়েছিলেন আলিয়া।

আরও পড়ুনঃ দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন কেমন থাকবে রাজ্যের আবহাওয়া? কি জানালো আবহাওয়া দপ্তর!

এদিন নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে একটি পোস্ট শেয়ার করে আলিয়া নিজের ভাইরাসের ফলে অসুস্থতার খবর জানান। পাশাপাশি সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সুস্থ থাকার জন্য অনুরোধ করেন অভিনেত্রী। পোস্টে তিনি লেখেন,”সবাইকে জানাচ্ছি আমার কোভিড-১৯ রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। আমি সাথে সাথেই নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিভৃতবাসে নিয়ে গিয়েছি এই মুহূর্তে। চিকিৎসকদের পরামর্শে সমস্ত সর্তকতাবিধি মেনে চলছি আমি। সবার ভালবাসা এবং সাপোর্টের জন্য ধন্যবাদ। আপনারা সবাই সুস্থ থাকুন এবং নিজেদের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখুন”। প্রসঙ্গত এই মুহূর্তে দেশের করোনা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে। ক্রমাগত দেশ জুড়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।বিশেষত মহারাষ্ট্র সহ ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা যে বাড়বাড়ন্ত অবস্থায় চলে গিয়েছে তা খুব শীঘ্রই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আবারো অকাল মৃত্যুর সম্ভাবনা দেখা দেবে। স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ হাজার ৪৪১ জন। এর মধ্যে শুধুমাত্র মহারাষ্ট্র রাজ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন
৪৩ হাজার ১৮৩ জন। গতকাল মৃত্যু হয়েছে ৪৬৮ জনের। অপরদিকে দিল্লিতে নতুন করে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩০০০ এর কাছাকাছি।ইতিমধ্যেই আজ ভাইরাসের এই সংকটজনক অবস্থা দেখে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল উচ্চপদস্থ আধিকারিক এর সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ আজ ২রা এপ্রিল শুক্রবার কেমন যাবে আপনার সম্পূর্ণ দিনটি? জানাচ্ছেন আমাদের বিশিষ্ট জ্যোতিষীরা

আঞ্চলিক ভাবে বেশ কিছু জায়গায় লকডাউন করা হলেও সম্পূর্ণরূপে এখনই লকডাউন করা হবে না বলে জানা গিয়েছে।শুধুমাত্র দেশ নয় আজ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত রূপ ধারণ করেছে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই রেকর্ড সংক্রমণ তৈরি করে এক ধাক্কায় এই সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ১২০০ এরও অনেকটাই উপরে। বিশেষত গতকাল রাজ্যে ছিল নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভোটদানের শেষ সময় অর্থাৎ সন্ধ্যে ৬ টা বেজে ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশেরও অনেক বেশি ভোট গ্রহণ হয়েছে।এমতাবস্তায় স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে প্রতিটি কেন্দ্রে কিরকম ভাবে মানা হয়েছে সামাজিক দূরত্ব বিধি, যে মাত্র একদিনের মধ্যেই সংক্রমণ পৌঁছে গিয়েছে ১২০০ এরও অনেক উপর।দেশের এই রাজ্যগুলির পাশাপাশি অপর আরেক রাজ্য ছত্রিশগড়ে গতকাল ভাইরাসের বেশ কয়েকটি নতুন প্রজাতির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে।জানা গিয়েছে ছত্রিশগড়ে পাওয়া এই নতুন প্রজাতি গুলির ক্ষমতা এতটাই বেশি যে শরীরে প্রবেশ করা মাত্রই মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে তুলতে পারে। এই নতুন প্রজাতিটির নাম রাখা হয়েছে N-440।