ভোটযুদ্ধে জয়ের পাশাপাশি স্তিমিত হলো আনন্দ, বাড়ির পাশেই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ধর্ষিতা যুবতীর

ভোটযুদ্ধে জয়ের পাশাপাশি স্তিমিত হলো আনন্দ, বাড়ির পাশেই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ধর্ষিতা যুবতীর

কলকাতা হান্ট ডেস্কঃ ভারতীয় সমাজ বিগত কয়েক বছর ধরেই মেয়েদের জন্য অসুরক্ষিত হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন জায়গা থেকেই ক্রমাগত ধর্ষণ থেকে শুরু করে শ্লীলতাহানি বিভিন্ন ধরনের খবর সামনে আসতে থাকে। আমরা কয়েক বছর ধরে পরিচিত হয়েছি নির্ভয়াদের মত মেয়েদের সাথে। কিন্তু তারপরেও কোনরকম সতর্কতা দেখা যায়নি। হয়তো আমাদের আশেপাশেই কোন ধর্ষক বা অত্যাচারী মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু নিজের স্বার্থপরতার দরুন আমরা এইসব বিষয়গুলিকে খুব সহজেই এড়িয়ে চলি। সম্প্রতি কিছুদিন ধরেই রাজ্য জুড়ে চলছিল নির্বাচনের প্রস্তুতি। চলতি বছরে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন সকলের কাছেই অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল।

শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস না বিজেপি কোন দলকে বাংলার মানুষ আগামী বছরের জন্য বেছে নেয় তা জানতে আগ্রহী ছিলেন সকলেই।সেইমতো নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে আট দফায় ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর গত ২ রা মে ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হয়। অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই তৃণমূল কংগ্রেস এই নির্বাচনে জয়লাভ করে। সেই মুহূর্তেই একদিকে যখন সবুজ আবিরে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ের উৎসব পালন করছে; ঠিক তখনই নিঃশব্দে একটি প্রাণ মৃত্যুমুখে চলে যায়।

জানা গিয়েছে ধর্ষিতা এই যুবতীর নাম শাশ্বতী জানাডেবরা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী এই মেয়েটি। পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার বাসিন্দা ছিল সে। বাড়িতে কাজ করতে আসা মজুরদের দ্বারা ধর্ষিত হয় শাশ্বতী। ধর্ষণ করার পর বাড়ির পাশেই এই নারকীয় অত্যাচার সহ্য করা মেয়েটিকে নাইটি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।পরিবারের তৎপরতায় খুব শীঘ্রই ওই মজুরদের গ্রেপ্তার করা হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো রকম শাস্তি প্রদান করা যায়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে গিয়েছে এই ঘটনা। তারপর থেকে সকলেই এই ফুটফুটে তরতাজা প্রানটির মৃত্যুর জন্য শাস্তি কামনা করছেন ওই মজুরদের। ধর্মগতভাবে ওই মজুরেরা মুসলিম হওয়ার কারণে ভোট পরবর্তী সময়ে আরও হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে অনেক জায়গায়। তবে সকলেরই দাবি ধর্ম বিচার না করে যেন মেয়েদের অসম্মানকারী এই ধর্ষকদের সঠিক ভাবে শাস্তি প্রদান করা হয়।

হয়তো এবারেও প্রতিবারের মত ধামাচাপা পড়ে যাবে ঘটনাটি। কিন্তু নিজেদের মেয়েকে হারিয়ে কখনোই হয়ত শাশ্বতীর পরিবার আর স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে ফিরে আসতে পারবে না। কিছু জায়গায় প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও তা কিছুদিন পর স্তিমিত হয়ে যাবে। তবে কখনই প্রাণ ফিরে পাবে না এই ফুটফুটে মেয়ে টি। আরো হয়তো বহু বছর বেঁচে থাকার ইচ্ছে ছিল তার। কিন্তু আমাদের সমাজের কিছু নরকের কীটদের জন্য অকালে প্রাণ হারাতে হলো তাকে। ভোট পরবর্তী সময়ে সব জায়গায় বিজয় মিছিল এবং অন্যান্য আনন্দ থাকলেও এই মেয়েটির ধর্ষক দের নিয়ে কোন কথা বলতে শোনা যায়নি কাউকে। আমরা আশা করবো খুব দ্রুত যেন শাশ্বতী জানার ধর্ষকেরা উপযুক্ত শাস্তি পায় এবং কখনোই যেন আমাদের সমাজে এইধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে।