দুর্গা সাজায় শামির মেয়েকে বিদ্রুপ, সব ধর্মকে ভালবাসতে শেখাচ্ছি, বলছেন হাসিন

নিজস্ব প্রতিবেদন: মহালয়ার দিন দেখা গেলো বছর ৬এর এক খুদে কে দুর্গা সাজতে। পরনে তার লাল টুকটুকে শাড়ি। কপালে সিঁদুরের টিপ, গা ভর্তি তার গয়না, হাতে ত্রিশূল। জানা গেছে, মেয়েটির নাম আইরা। ধর্মে মুসলিম। তা সত্ত্বেও অস্ত্র হাতে মহিষাসুরকে যুদ্ধে হারিয়ে বুকে গেঁথে দিল ত্রিশূল। আর এরপরেই শুরু সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে তাকে নিয়ে বিদ্রুপ। কারণ মেয়েটির পরিচয় যে, তার বাবা জাতীয় দলের তারকা পেসার মহম্মদ শামি। আর সেলিব্রিটি-কন্যা হওয়ার বিড়ম্বনা অনেক বেশি। তাই দুর্গা সেজে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের কাছে ট্রোলিংয়ের নিশানা হতে হল আইরা শামিকে।

আর এরপরেও দমে যাননি আইরার মা হাসিন জাহান। তিনি জোর গলায় বলেছেন, মেয়েকে সব ধর্মকে ভালবাসতে শিখিয়ে তিনি আইরাকে উদারমনস্ক করে তুলতে চাইছেন। আর তাই বুধবার মহালয়ার দিন সকালে দুর্গা সেজে ফটোশ্যুট করানো হয় আইরাকে। এবং তার কয়েকটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন হাসিন। আর তারপর থেকেই কুমন্তব্যে ভরে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া।

জানা গেছে,এর আগেও দোল,ও দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে হাসিনকে। এদিন এবিপি লাইভকে এসে হাসিনা বলেন, ‘আমি চাই না আইরার ধর্ম নিয়ে কোনও ছুৎমার্গ থাকুক। ও নাচতে ভালবাসে। প্রত্যেকউৎসবে নাচে, উদযাপন করে। সব ধর্মের অনুষ্ঠানে সামিল হয়। ওকে এভাবেই বড় করতে চাই।’

এরপর তিনি আরও জানান, ‘আমার জীবনে এত কিছু ঘটে গিয়েছে যে, আজ এসবে আর পাত্তা দিই না। মাথা ঘামাই না। খুব অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছিল। আগের শ্বশুরবাড়িতে অনেক লড়াই করতে হয়েছে। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম। তারপর মহম্মদ শামিকে বিয়ে। সন্তানের মা হওয়া। তারপর আর এক নতুন লড়াই। নিজের স্বামীর বিরুদ্ধেই। কখনও পরিবারের সাহায্য পাইনি। আমার মতো পরিস্থিতিতে পড়লে অনেকেই হয়তো আত্মহত্যা করবে, বা লড়াই করবে। আমি দ্বিতীয় পথটা বেছে নিয়েছি। একা লড়াই করতে করতে মানসিকভাবে পোক্ত হয়ে গিয়েছি। এখন আর এসবের তোয়াক্কা করি না।’

এছাড়াও হাসিন বলেন, ‘আইরার বয়স মাত্র ৬ বছর। খুব ছোট থেকেই ও আমার কাছে নাচ শেখে। ওর যেটা ভাল লাগে সেটাই করেছে।’ জানা গেছে, হাসিন নিজে একজন মডেলিং করতেন। কিন্তু বিয়ের পর আর সেভাবে কাজ করা হয়ে ওঠেনি। বর্তমানে শামির সঙ্গে তাঁর আপাতত বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে কোর্টে মামলা চলছে। আর তাই হাসিনও পুনরায় নিজের জগতে ফেরার চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন

Back to top button