২ ফুট উচ্চতা হয়েও হার মানেননি জীবনে, বহু প্রতিকূলতা নিয়ে গিনেস রেকর্ড করেছে ভারতের জ্যোতি

নিজস্ব প্রতিবেদন: পৃথিবীতে বেশিরভাগ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করলেও অনেক মানুষকেই প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। হয়তো এটাই ঈশ্বরের নিয়ম বলে পরিচিত।সকল ব্যক্তিরা সুস্থ এবং স্বাভাবিক শরীর নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারেন না।কিছুদিন আগেই আমরা এমন এক ব্যক্তির খোঁজ পেয়েছিলাম যার মাথা সম্পূর্ণ উল্টো দিকে ঘোরানো। বর্তমানে তার বয়স 42 বছর। জীবনের এতোগুলো বছর ধরে নিজের মাথা দিয়ে উল্টো ভাবে এই পৃথিবীকে দেখছেন তিনি।

প্রথমে তার বাঁচার আশঙ্কা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু প্রায় 42 বছরের জীবনে বিশেষ কোনো সমস্যা দেখা যায়নি তার।পরবর্তী সময়েও তিনি একই ভাবে বেঁচে থাকতে চান বলে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি।আজকে আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা জেনে নেবো এক ভারতের কন্যার কথা যিনি মাত্র দুই ফুট।

উচ্চতা নিয়েও গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম তুলে নিয়েছেন। এই মেয়েটির গল্প সম্বন্ধে জানলে নিঃসন্দেহে আপনিও অবাক হবেন। জ্যোতি কিষাণজি নামে এই মেয়েটির বয়স ২৭ বছর। কিন্তু বয়সের তুলনায় উচ্চতা মাত্র দুই ফুট। এই তরুণী বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম ব্যাক্তি। তিনি তার উচ্চতার জন্য গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নিজের নাম স্থাপন করেছেন, এমনটাই জানা গিয়েছে। জ্যোতি মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা।

জন্মের পর থেকেই নানাভাবে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল জ্যোতিকে।প্রত্যেকবার নিজের উচ্চতার জন্য সমালোচিত হতে হয়েছিল জ্যোতিকে। শিক্ষাক্ষেত্র থেকে শুরু করে কাজের জায়গা সকল ক্ষেত্রেই বারংবার বাধার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি।কিন্তু কখনোই পিছিয়ে আসতে দেখা যায়নি এই ভারতীয় কন্যাকে। যার ফলস্বরুপ আজ গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম রয়েছে তার। আপনারা হয়তো অবাক হবেন এটা জানলে, জ্যোতির সাইজের কারণে জ্যোতিকে আলাদাভাবে জামা-কাপড় বানিয়ে দিতে হয়। এমনকি খাবার-দাবারের জন্যও আলাদা বাসনপত্র রয়েছে তার।জ্যোতি একটি রোগে আক্রান্ত যার নাম ডোয়ার্ফিজম।

যখন জ্যোতি পাঁচ বছর বয়সে পৌঁছান তখন থেকেই তার এই রোগটি প্রকাশ্যে আসে। প্রথমদিকে মেয়ের এই রোগ সম্বন্ধে জানতে পেরে তার বাবা-মা অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জ্যোতিকে সাহস জোগানোর জন্য তার বাবা-মাও সমান ভাবে এগিয়ে আসেন।এখন জ্যোতির উচ্চতা দু ফুট এবং জন্মের পর থেকে তার ওজন মাত্র ৪ কেজি বেড়েছে। কিছুদিন আগেই পাঞ্জাবি গায়ক মিকা সিংয়ের সাথে একটি গানের ভিডিওতে কাজ করেছিলেন জ্যোতি।

তারপর থেকেই জ্যোতির জনপ্রিয়তা আরো শীর্ষস্থানে পৌঁছায়। এই মিউজিক ভিডিওতে কাজ করা ছাড়াও বর্তমানে বিভিন্ন ফ্যাশন শোতে দেখা যাচ্ছে জ্যোতিকে। অনেকেই জ্যোতির সাহায্য নিয়ে নিজেদের ব্র্যান্ডের পোশাককে প্রমোশন করছেন।এমনকী মহারাষ্ট্রের এই কন্যার জীবনযাত্রা নিয়ে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করা হয়েছিল যেটি এখন “টু ফুট টল টিন” নামে পরিচিত। এটি বেশ সাড়া ফেলেছে মানুষের মধ্যে।

সোশ্যাল মিডিয়াতেও সমানভাবে অ্যাক্টিভ দেখা যায় জ্যোতিকে। নিয়মিত নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে নিত্যনতুন ছবি শেয়ার করে থাকেন জ্যোতি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্ত সংখ্যা কম নয় এই মেয়ের।প্রতিদিন জনপ্রিয়তার কারণে তার অনুরাগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে ক্রমশ।যেভাবে হাজারো প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জীবনের পথে এগিয়ে গিয়েছেন এই কন্যা তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। এবং অবশ্যই এই বিষয়ে তার বাবা-মাকে কুর্নিশ জানানো উচিত।আমরা আশা করব যেন ঠিক এভাবেই জীবনের পরবর্তী ক্ষেত্রে সফলতা লাভ করতে পারেন পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম এই কন্যা জ্যোতি কিষানজি।

আরও পড়ুন

Back to top button