পুত্রশোক বুকে চেপে দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই, বধর্মানের শোভা যেন ‘শক্তিপীঠ’

নিজস্ব প্রতিবেদন: পৃথিবীতে এমন কোন ক্ষমতা নেই যা মাতৃ শক্তি কে হার মানায়। জীবনের সমস্ত টানাপোড়েন, সুখ দুঃখের মধ্যে দিয়েও মাতৃশক্তির জয় যেন নিশ্চিত। ঠিক এমনই এক মাতৃশক্তির পরিচয় পাওয়া যায় শুভ দাশগুপ্তের মধ্যে। এ যেন এক অন্য দুর্গার কাহিনী।

বর্ধমান স্টেশন এর 5 নম্বর প্ল্যাটফর্মের সিঁড়ির নিচে একটি ছোট দোকান শুভ দাশগুপ্ত র। দোকানটি সকলেই ঠাকুমার দোকান হিসাবে চেনে।ঠাকুমা ওরফে শোভা দাশগুপ্ত র বয়স্ 68 বছর। থাকে বর্ধমানের লোকো কলোনিতে। তার দুই ছেলে এবং এক মেয়ে। তিনি শোনালেন তার বেচেঁ থাকার লড়াইয়ের কাহিনী।

2013 সাল নাগাদ মহালয়ার দুদিন আগে তার বড়ো ছেলে সঞ্জীব-এর মৃত্যু হয়। স্টেশনে দোকান চালাতেন শোভার বড়ো ছেলে। শোভা বলেছেন এই দোকানেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় আমার ছেলে। এখন ছোট ছেলে, বৌমা, নাতনি কে নিয়ে তার সংসার।

শোভার স্বামী মারা গেছেন অনেক আগেই। বাড়ি ভাড়া দিয়ে সন্তানদের মানুষ করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। তাই সেই কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে শোভার বড় ছেলে বর্ধমান স্টেশনের দোকান দিয়েছিল। শোভার বড় ছেলের মৃত্যুর পর এখন শোভা নিজেই সেই দোকান সামলাচ্ছে। রুটি, ঘুগনি, চপ, মুড়ি এমন কিছু খাবার বেচেন শোভা। আর একটু সস্তা তেও বিক্রি করেন তিনি।

একটু একটু করে শোভা যখন সমস্ত লড়াইয়ে জিততে শুরু করেন তখনই ধাক্কা দেয় শোভার ছেলের মৃত্যু। করোনা মহামারী তাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দু’বছর বন্ধ ছিল দোকান। বয়স 70 ছুঁই ছুঁই। এই বৃদ্ধ বয়সেও তিনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন শোক দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে। সংসারের হাল ফেরাতে তিনি শুরু করেছেন রুটি ঘুগনি বিক্রি। শোভা বলেছেন, তার পাশে একজন মানুষ দাঁড়ালে ভালো হয়। বলেছেন ‘ছোট ছেলেটার একটা কাজ হলে ভালো হয়।’ দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে এমন লড়াই পৃথিবীর সমস্ত নারীশক্তি র প্রমাণ দেয়। সব জাতিকেই বুঝিয়ে দেয় যে নারীশক্তি পৃথিবীতে অজেয়।

আরও পড়ুন

Back to top button