লোকের বাড়িতে বাসন মেজে এমএ পাশ! পরিচারিকা থেকে কলেজের অধ্যাপিকা শ্যামলী

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিগত বেশ কয়েকবছর ধরেই মানুষের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে জি বাংলার রিয়্যালিটি শো দিদি নাম্বার ওয়ান। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই অভিনেত্রী রচনা ব্যানার্জীর সঞ্চালনায় এই শো টি চলে আসছে। এই শো টিতে মূলত নানান রকম খেলার মধ্য দিয়ে দর্শকদের মনোরঞ্জন করা হয়। তার সাথে থাকে নানান গিফট ও।

তবে এই শো টি মূলত জীবনের সাথে কঠিন লড়াই করে সাফল্য পাওয়া ব্যক্তিদের কেই নিয়ে আসে। আর তার সেই দীর্ঘদিনের লড়াই এর কথা দিদি নম্বর ওয়ানের মঞ্চে দর্শকদের জন্য তুলে ধরেন তারা। আর এহেন মোটিভেসনাল কথা শুনতে ভালোবাসেন সকলেই। তবে সম্প্রতি এমন একজন ব্যক্তি দিদি নাম্বার ওয়ান এ হাজির হিয়ে ছিলেন যিনি পরিচারিকা থেকে হয়ে উঠেছিলেন কলেজের অধ্যাপিকা। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক এই মানুষটির সম্পর্কেই।

কঠিন পরিস্থিতি থেকে অদম্য লড়াইয়ের মাধ্যমে সাফল্য পাওয়া এহেন ব্যক্তির নাম শ্যামলী রায়। তার বাবা ছিলেন দিন মজুর ও মা গৃহবধূ। ছোটবেলা থেকেই তীব্র অর্থ কষ্টে বেড়ে ওঠা এবং রোজ মায়ের প্রতি বাবার অত্যাচার দেখতে দেখতেই কার্যত কিছু করার জেদ চেপে বসে তার মধ্যে। মূলত মা কে বাবার হাত থেকে রক্ষা করায় তার মূল উদ্দেশ্য হয়ে ওঠে।

তীব্র অর্থকষ্টে যখন তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড় সেই তখন থেকেই কার্যত নিজের লড়াই নিজে একা একাই করতে শিখে গিয়েছিলেন তিনি। পড়াশোনা করার জন্যই তিনি আশেপাশের বিভিন্ন বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে সামান্য কিছু অর্থ উপার্জন করতে থাকেন। সেই অর্থ দিয়েই সম্পন্ন করেন নিজের স্কুল জীবন।

এর পরেই একটু বড়ো হতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন তিনি। এখানেও কার্যত নিজের লড়াই নিজেই জারি রাখেন। খবরের কাগজে বিজ্ঞপ্তি দেখে নিজের বিয়ের জন্য নিজে একাই পৌঁছে যান পাত্রপক্ষের সাথে কথা বলতে। দুটি শর্তের মাধ্যমে তাদের দুজনের বিয়েও ঠিক হয়ে যায়। শ্যামলীর দুটি শর্ত ছিল বিয়ের পর মা কে দেখা এবং তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া। দুটি শর্তে পাত্রপক্ষ রাজিও হয়ে যায় এবং তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।

তবে বিয়ের পরও লড়াই তার পিছু ছাড়েনি। এখানেও মূলত একা একাই নিজের লড়াই জারি রাখেন তিনি। বিয়ের পর কার্যত সমস্ত শর্ত ভুলে তার পড়াশোনা তেই বাধা দেওয়া হয়। এহেন পরিস্থিতিতে তার লড়াই আরো কঠিন করে তোলে যখন তার সন্তান হয় এবং সন্তানের কিডনির অসুখ ধরা পড়ে। যার ফলে শ্বশুরবাড়ি থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় তার পড়াশোনা। কিন্তু হেরে যাওয়ার পাত্র তিনি নন। ছেলেকে শুশ্রূষা করতে করতেই তিনি জারি রাখেন তার পড়াশোনা। পরবর্তীতে ছেলেকে স্কুলে দিয়ে তার সাথে থাকার নাম করেই কলেজ পাশ করেন শ্যামলী।

যার ফলে ২০১৩ শালে এমএ কমপ্লিট করে ফেলেন শ্যামলী। তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তার উচ্চবিদ্যা সম্পন্ন করেন। কথায় বলে কঠিন পরিশ্রম সাফল্যের চাবিকাঠি। শ্যামলী দেবীও এর ব্যতিক্রম নয়। এর পরেই ২০১৪ তে নেট পাশ করে ২০১৭ তে কলেজের অধ্যাপিকা হিসেবে যুক্ত হন তিনি। কলকাতার এক নামকরা কলেজ বাসন্তী দেবী তেই তিনি প্রথম অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হয়েছিলেন। ওটাই ছিল তার অন্ধকার সময় পেরিয়ে প্রথম আলো। এহেন ব্যক্তির একা একাই লড়াই করে সাফল্য পাওয়ার দৃশ্য কার্যত মন ছুঁয়েছে সকলেরই।

আরও পড়ুন

Back to top button