শ্রীকৃষ্ণের পুত্রের ন্যায় রোগ থেকে মুক্তি পেতে স্মরণ করুণ সূর্য দেবকে, পাবেন দেবের আশীর্বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদন: সূর্য বলা হয় পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস।এই সূর্যদেবের সাহায্যেই যেমন আমরা দৈনন্দিন জীবনযাপন করতে পারি ঠিক তেমনভাবেই ভগবান সূর্য দেবের আশীর্বাদে আমরা জীবনের যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি লাভ করতে পারি।তবে অন্যান্য দেবতাদের পুজোর মত সূর্যের পুজোর ক্ষেত্রেও বিশেষ কিছু নিয়মাবলী পালন করতে হবে সকলকে।

এই বিশেষ নিয়মগুলি না জানলে কোনদিনই আপনি নিজের পুজোর সঠিক ফল পাবেন না।সূর্য দেবতাকে শক্তি এবং তেজের আধার রূপে পূজা করা হয়।দেবতা সূর্যকে রোগ বিনাশকারী হিসাবে স্মরণ করা হয়। বলা হয়, আকাশে সূর্য উদীয়মান হওয়ার পূর্বে পবিত্র গঙ্গা স্নান ব্যক্তিকে সকল রোগ ব্যাধি থেকে মুক্তি দেয়।

হিন্দু শাস্ত্রে সূর্যদেব সম্পর্কিত নানান ধরনের গল্প প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে একটি কাহিনীতে বলা হয়,শ্রীকৃষ্ণ পুত্র শম্ভ প্রভূত বলের অধিকারী ছিলেন। আর এরকম হলে যে ধরনের ঘটনা ঘটে কৃষ্ণ পুত্রের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।সর্বদা নিজের শারীরিক শক্তি নিয়ে গর্ব করতে দেখা যেত তাকে।একদা দুর্বাসা মুনি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দ্যেশ্যে বেরিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তপস্যারত দুর্বাসা মুনি শারীরিক ভাবে অত্যন্ত দুর্বল ছিলেন। শ্রীকৃষ্ণের সাক্ষাৎকামী এই মুনির সাথে হঠাৎ করেই দেখা হয় কৃষ্ণ পুত্র শম্ভের।

নিজের অহংকারের কারণে হঠাৎ করেই দুর্বল মুনিকে অপমান করে বসেন তিনি। এই ঘটনা দেখে দুর্বাসা মুনি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে যান।নিজের ক্রোধের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে ভগবান কৃষ্ণের পুত্রকে অভিশাপ দেন তিনি। সেই অভিশাপ এর ফলে শম্ভের সারা শরীরে কুষ্ঠ রোগ ছড়িয়ে যায়।

এরপর ভীত শম্ভ নিজের পিতার কাছে উপস্থিত হলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাকে সব ভুল বুঝিয়ে ভগবান সূর্যদেবের উপাসনা করার পরামর্শ দেন।এরপর পিতার নির্দেশ মেনে নিয়মিত সূর্যদেবের উপাসনা করতে থাকেন তিনি।যার ফলস্বরুপ খুব শীঘ্রই কুষ্ঠ রোগ থেকে নিরাময় লাভ হয় তার। তাই মনে করা হয় যেখানে স্বয়ং ভগবান কৃষ্ণের পুত্র সূর্যদেবের উপাসনা করেছিলেন সেখানে আমরা তো তুচ্ছ মানুষ মাত্র।

সূর্যদেবকে আরাধনা করার জন্য স্নান সেরে উদীয়মান সূযের দিকে তাকিয়ে ঘিয়ের প্রদীপ, লাল ফুল, কর্পূর এবং ধূপ সহযোগে দেবতার আরাধনা করতে হয়। সূর্যদেবের কৃপায় হারানো সমৃদ্ধি ফিরে আসে ৷ হিন্দুশাস্ত্র মতে তিনিই একমাত্র দেবতা যাঁকে প্রতিদিনই আমরা প্রত্যক্ষ করে থাকি।পুরাণ মতে শৈব ও বৈষ্ণবেরা সূর্যকে শিব ও বিষ্ণুর রূপ বলে মনে করেন।হিন্দুধর্মের প্রধান সৌর দেবতা।

তিনি আদিত্যগণের অন্যতম এবং কশ্যপ ও তাঁর অন্যতমা পত্নী অদিতির পুত্র।কোনো কোনো মতে তিনি ইন্দ্রের পুত্র।সমস্ত জৈবনিক ক্রিয়াকলাপ চালু থাকে সূর্যের শক্তি নিয়েই।তাই যদি আপনিও রোগমুক্তি ঘটাতে চান এবং নিজের জীবনের সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে চান তাহলে অবশ্যই সূর্যদেবের উপাসনা করুন।

আরও পড়ুন

Back to top button