বাবা ছিলেন স্কুলের পিওন, সতো দারিদ্রতার মাঝেও স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে আইপিএস পাস করল মেয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদন: কথায় আছে লক্ষ্য স্থির রেখে এগোলে একদিন লক্ষ্যে পৌঁছানো ঠিকই সম্ভব। লক্ষ্য স্থির রাখলে এবং পরিশ্রম করলে দারিদ্রতাও যে হার মানে এরকম বহু ঘটনার সাক্ষী থেকেছে মানুষ। আজ এমনই এক মানুষের সফলতার কাহিনী সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক যাকে দারিদ্রতা, বয়স বা অন্য কোন কাজ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তার লক্ষ্যপূরণের পথে। নিজের জেদকে সম্বল করেই হয়েছিলেন আইপিএস অফিসার।

আজ জেনে নেওয়া যাক ডক্টর বিশাখার সাফল্যের কাহিনী। নাসিকের একটি দরিদ্র পরিবারে জন্ম হয় তার। বাবা অশোক ভাদানে পেশায় একজন স্কুলের পিওন ছিলেন। বিশাখা সহ তিন ভাই বোনের খরচ চালাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হতো তার বাবাকে। কিন্তু আয় কম হলেও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোন দিন বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি তার বাবা-মা। বরং উচ্চ শিক্ষার জন্য তাদের আরো উৎসাহিত করে গেছেন। সেই কারনেই বিশাখার মা একটি দোকান ও খুলেছিলেন কিছু বেশী অর্থ উপার্জনের জন্য।

তবে আচমকায় আইপিএস হওয়ার চিন্তা মাথায় আসে বিশাখার। রীতিমতো সেই ইচ্ছেতে ভর করেই ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসার কথা ভাবেন তিনি। যেমন ভাবা তেমনই কাজ। জোর কদমে প্রস্তুতি শুরু করে দেন ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য। যার ফলস্বরূপ ২০১৮ র ব্যাচ থেকে আইপিএস অফিসার হয়ে বেরোন ডক্টর বিশাখা।

তবে তার এই সাফল্যের পিছনে মা বাবা ছাড়াও তার পরিবারের সকলের অবদানের কথায় জানান। তিনি জানান, তার প্রস্তুতি নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ ছিলোনা তার বাবা-মা র কাছে। সেই সময় তার মামা থেকে শুরু করে পরিবারের অনেকেই অর্থ সাহায্য করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি বলেন যৌথ পরিবারে বড়ো হয়ে ওঠা এদিক থেকে আমার কাছে আশীর্বাদ ছিল।

এর পাশাপাশি তিনি জানান ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পূর্বে নানান বাধা তাকে অতিক্রম করতে হয়েছে। ইন্টারভিউ থেকে শুরু করে তার সমস্ত কিছুই তিনি জানিয়েছেন সকলকে। তিনি জানান এক মেজর জেনারেল,দুই লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও এক মনোবিজ্ঞানীরা উপস্থিতিতে তার ইন্টারভিউ পর্ব পার হয়েছিল বেশ মসৃন ভাবেই।

যেখানে মূলত তার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কারন বা কর্পোরেট জগৎ থেকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা কেন? কিভাবে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনীতে অবদান রাখতে পারবেন? এই জাতীয় প্রশ্নই মূলত করা হয়েছিল তাকে। যার ফলে কার্যত মোট প্রার্থীর অর্ধেকের বেশী বের হয়ে যায় সেই বাধা তিনি পার করেছিলেন সহজেই।

এর পরেই আসে এসএসবির সবথেকে বেশী কঠিন পরীক্ষাটি। যেটি হলো শারীরিক পরীক্ষা। যেই বাধাও তিনি অতিক্রম করেছিলেন। ইন্টারভিউ এর পর পরে থাকা মোট ৮১৬ জন প্রার্থীকে ২০০ টি ব্যাচে ভাগ করে নেওয়া হয়েছিল পরীক্ষা। যেখানে ২১-এসএসবি ভোপালে মোট ১৭২ জন পরীক্ষার্থী রিপোর্ট করেছিলেন। তবে স্ক্রিনিং টেস্টের পর যে সংখ্যাটা নেমে আসে ১৬ ই। দীর্ঘ ৬ ঘন্টা ধরে চলছিল এই স্ক্রিনিং টেস্ট।

তার পরের চার দিন কার্যত জীবনযুদ্ধ ছিল ওই ১৬ জনের কাছে। কারন ওই পরবর্তী চার দিনের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই করা হয় মূল্যায়ন। যার মধ্যে ছিল নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, দল হি,সাবে কাজ করার ক্ষমতা, যুক্তিবোধ, পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতার বিভিন্ন পরীক্ষা, গ্রুপ টাস্ক এবং ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার। এবং এত গুলি ধাপ পেরিয়েই অবশেষে নিজের লক্ষ্যে সফল হয়েছিলেন এই মহিলা।

আরও পড়ুন

Back to top button