মা কে হারিয়েছেন মাত্র ৪ বছর বয়সে! অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা, আজ নিজের যোগ্যতায় চাকরি দিয়েছেন ২২ হাজার মহিলাকে

নিজস্ব প্রতিবেদন: বর্তমান সমাজে নারী আর পুরুষের মধ্যে যোগ্যতার তফাতের যে দেওয়াল তা ক্রমশ ফিকে হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে নারীরা তাদের কাজের দ্বারা সারা বিশ্বে পরিচিতি পাচ্ছে। তারই একটা উদাহরণ হলেন ভারতের রুমা দেবী। রুমা দেবীর এই জীবন সংগ্রামের গল্প অনুপ্রাণিত করে চলেছে দেশের দেশের হাজার হাজার মহিলাকে। আসুন একটু জেনে নেওয়া যাক।

রাজস্থানের বাসিন্দা হওয়ার কারণে সেখানকার প্রথা মেনে ছোটবেলাতেই বাল্যবিবাহ হয়ে গিয়েছিল তার।এবং সেখান থেকেই তাঁর জীবনে শুরু হয় দুর্ভোগের দিন। বিয়ের আগের জমে থাকা নানান রকম স্বপ্নগুলো বিয়ের চাপে স্বপ্ন হয়েই মনের মধ্যে থেকে গেছিল তার। তবে ভগবান তাকে একটা মস্ত প্রতিভা দিয়ে পাঠিয়েছিলেন জেটার বহিঃপ্রকাশ কেও আটকাতে পারেনি। তা হলো তাররাজস্থানী হস্তশিল্পের দক্ষতা। শাড়ি, চাদর, কুর্তা ইত্যাদি হস্তশিল্পের পোশাক তিনি নিপুন দক্ষতায় তৈরি করতে পারতেন। তার এই দক্ষতাই বর্তমানে দেশের গন্ডি পেরিয়ে পৌছিয়ে গিয়েছে বহু বিদেশে।

নিজের কাজ ছাড়াও তিনি তার রাজ্যের আশেপাশের জেলা- বার্মার, গেলসেমার, বিকেনার ইত্যাদি থেকে প্রায় ৭৫ টি গ্রাম থেকে ২২ হাজার মেয়েকে কাজ দিয়ে নিজের পায়ে দার করিয়েছেন। বর্তমানে রুমা দেবী তার মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে যেসব জিনিস তৈরি করেন তা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ব্রিটেন, জার্মানি, সিঙ্গাপুর এবং শ্রীলঙ্কা ইত্যাদি দেশে রপ্তানি হয়।

সম্প্রতি রুমা দেবীকে নিয়ে ‘হসলে কা হুনার’ নামে একটি বই লিখেছিলেন লেখক ‛নিধি জৈন’। এই বইতে বিস্তারিতভাবে রুমা দেবীর জীবনের নানান রকম চড়াই উৎরাই, সাফল্য,বিফলতা ইত্যাদি সবই স্পষ্ট ভাবে লেখা আছে। ছোটবেলাতে বাল্যবিবাহের পর কম পড়াশোনা শিখেও কিভাবে শুধুমাত্র নিজের মেধার এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোড়ে এতটা সাফল্য অর্জন করেছেন সেই কথাই লেখা আছে এই বইতে।

আরও পড়ুন

Back to top button