বড়ো খবর: পরপর তিনবার অনুভূত ভূকম্পন, আতঙ্কে উত্তরবঙ্গবাসীরা

নিজস্ব প্রতিবেদন: তৃতীয় দফার ভোটের আগে পরিবেশের সাথে যেন মনোমালিন্য ঘটে গিয়েছে উত্তরবঙ্গবাসীর।ক্রমাগত গতকাল রাত থেকে পরপর উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে।এখনো পর্যন্ত এর বিশেষ কিছু কারণ জানা না গেলেও গতকাল রাতের ভূমিকম্পের উৎসস্থল সম্পর্কে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রসঙ্গত সোমবার রাত ৮.৫০ মিনিট নাগাদ হঠাৎ করেই উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, কালিম্পং ,শিলিগুড়ি প্রভৃতি জেলাগুলোতে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের তীব্রতা ছিল ৬.৩। উত্তরবঙ্গ ছাড়াও মহানগরী কলকাতার বেশ কিছু অংশে এই কম্পন অনুভূত করা গেছে।গতকাল রাতে কম্পন অনুভূত হওয়ার পর সাথে সাথেই আতঙ্কের ফলে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন বাসিন্দারা। বেশ কিছুক্ষণ ধরে স্থানীয় অঞ্চলে হইচই সৃষ্টি হয়। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ নয় পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যেও ভূমিকম্প লক্ষ্য করা গিয়েছে। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে অসম এবং বিহার। বিহারের পাটনা, কিশান্গঞ্জ ,সুপৌল প্রভৃতি জেলাগুলোতে এখনো মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয় দফার ভোটের পাশাপাশি আজ রয়েছে দেশের অন্যান্য ৪ রাজ্যের ভোট, বিস্তারিত জেনে নিন এক ঝলকে

বৈজ্ঞানিকদের মতানুযায়ী জানা গিয়েছে,প্রথমবার ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল সিকিম — ভুটান সীমান্ত। মাটির নীচে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল এই ভূকম্পের উৎসস্থল। সোমবার রাতের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই আবারো মঙ্গলবার সকাল ৭.০৭ মিনিট নাগাদ হঠাৎ করেই উত্তরবঙ্গে ভূমিকম্প দেখা দেয়। তবে প্রথমবারের তুলনায় এবারের তীব্রতা ছিল অনেকখানি কম। এই তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে ৪.১। কিন্তু এরপরেও সম্পূর্ণ ভয় কেটে ওঠেনি।বিশেষত উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশ পার্বত্য এলাকা হওয়ার জন্য ভূমিকম্পের ফলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রবল থাকছে। তবে যদি সঠিকভাবে সতর্কবার্তা অবলম্বন করা যায় তাহলে হয়তো এই ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই আটকানো সম্ভব। প্রথম এবং দ্বিতীয় বারের পর আবারও সকাল ১০.৩০ মিনিটে এই কম্পনের সামান্য প্রভাব দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ অভিষেক বচ্চন এত সুন্দর বউ ডিজার্ভ করেন না কটাক্ষ নেটিজেনের, যোগ্য উত্তর দিলেন অভিষেক

বৈজ্ঞানিকদের দাবি খুব শীঘ্রই ভূমিকম্পের আরো কিছু আফটার শক’ দেখা দিতে পারে।তবে সে কম্পনের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে না আরো ভয়াবহ উঠবে তা এখনও স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। ফলস্বরূপ মানুষকে সতর্ক এবং সজাগ থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে হঠাৎ করে এই ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার কারণ কি? তবে কি মানুষকে বিশেষ কোনো বার্তা দিতে চাইছে পরিবেশ! বিগত বছরগুলোতে প্রগতিশীল দেশগুলিতে ক্রমাগত পরিবেশ দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে আমাদের ভারতবর্ষ। নদী থেকে বায়ু সব জায়গাতেই এখানে দূষণের মাত্রা অনেকটাই বেশি। যদিও গত বছরে লকডাউন এর সময় তা কিছুটা কমতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের শুরুর দিক থেকেই দূষণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। ফলস্বরূপ বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের দাবি আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই মেরু অঞ্চলের বরফ গলে গিয়ে বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। শুধুমাত্র বন্যা নয় বিশ্বজুড়ে দেখা দিতে পারে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। যেমন কিছুদিন আগেই উত্তরাখণ্ডে হিমবাহ ধস এবং তুষারধসের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত হওয়া ভূমিকম্পগুলির ফলে কোনরকম ধন সম্পদ বা মানব সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বলে রাখি, ভূমিকম্প অনুভূত হলে সবার প্রথমে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। কোনরকম গাছের তলায় দাঁড়াবেন না।বহুতল বাড়িতে থাকলে শক্ত কোন জিনিসের নিচে আশ্রয় নিন। বৈদ্যুতিক জিনিস বা লিফট ব্যবহার করবেন না। এতে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। যতটা সম্ভব আপাতত সর্তকতা অবলম্বন করুন।