১০১ টাকা দিয়ে চারটে ভোট পেলেই আমি খুশি, বিজেপি তো টাকা খাইয়ে ভোট করাচ্ছে’; বিস্ফোরক মন্তব্য সায়ন্তিকার!

নিজস্ব প্রতিবেদন: চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার প্রধান দুই রাজনৈতিক দলেই তারকা প্রার্থীদের প্রভাব রমরমিয়ে চলছে।একদিকে যেমন তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, অদিতি মুন্সি, কৌশানী মুখোপাধ্যায়, সোহম চক্রবর্তীর মতো তারকারা।ঠিক অপরদিকে গেরুয়া শিবিরে দেখা গিয়েছে হিরণ চট্টোপাধ্যায়, পায়েল সরকার, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, তনুশ্রী চক্রবর্তীর মত ব্যক্তিত্বদের।উল্লেখ্য আজ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ভোট রয়েছে মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়ার শেষ কিছু কেন্দ্রসহ হাইভোল্টেজ আসন নন্দীগ্রামে।তাই সকাল থেকেই এই সব জায়গাতে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা জারি করার পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল জোরকদমে। কোন রকম ভাবেই চলতি নির্বাচনে খামতি দেখতে রাজি নয় কমিশন। তাই আগে থেকেই বহুসংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য রাজ্যে নিয়ে আসা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ ভারতকে বিশ্বকাপ এনে দেওয়া ১১ জন ক্রিকেটার আর কখনও একসঙ্গে মাঠে নামার সুযোগ পাননি কেন? প্রশ্ন তুললেন গম্ভীর

প্রায় হাজার কোম্পানির বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে আসা হয়েছিল গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে।রাজ্য পুলিশকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন মনে করে সমস্ত ভোটের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলো নির্বাচন কমিশন। তার বদলে ভোট গ্রহণের সমস্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর।এই পরিস্থিতিতে আজ টাকার বিনিময়ে ভোট পাওয়ার কথা তুলে অস্বস্তিতে পড়লেন শাসক দলের নেত্রী তথা বাঁকুড়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।প্রসঙ্গত আজ বাদবাকি আসনগুলোর সঙ্গে বাঁকুড়ার কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে সায়ন্তিকার ভাগ্য নির্ধারণ পরীক্ষা রয়েছে। তাই শেষ পর্যায়ে ভগবানের আশীর্বাদ নিয়েই ভোটযুদ্ধে বৈতরণী পার করতে চাইছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ সপ্তাহের শেষ দিনে আজ কেমন থাকবে তাপমাত্রা

এদিন সকালে ভোট শুরুর সময়তেই বাঁকুড়ার ভৈরব স্থান মোড়ে ভৈরব মন্দিরে পুজো দেন সায়ন্তিকা।তবে সকলকে অবাক করে দিয়ে পুজো দেওয়ার পর দক্ষিণা টাকা প্রণামী বাক্সতে না দিয়ে মন্দিরের বাইরে উপস্থিত গরিবদের হাতে তুলে দেন অভিনেত্রী। বাইরে উপস্থিত মোট তিনজনকে ১০১ টাকা করে দান করেন সায়ন্তিকা।এর পরেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এই অভিনেত্রী তথা তৃণমূলের তারকা প্রার্থী বলেন,”অনেকেই বলেছেন আমি ভৈরব স্থান মায়ের মন্দিরে পুজো দিয়ে টাকা দিয়েছি। প্রণামীর বাক্সে ১০১ টাকা না দিয়ে যদি মন্দিরের সামনে বসে থাকা গরীব মা জ‍্যেঠিমাদের টাকা দিই, আশীর্বাদ নিই, চারটে ভোট পাই তাতেই আমি খুশি। বিজেপি তো টাকা খাইয়ে ভোট করাচ্ছে”।

আরও পড়ুনঃ একধাক্কায় রাজ্যে রেকর্ড সংক্রমণ, শুক্রবার সংক্রমণ হার পৌঁছল ৫ শতাংশের ওপর

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার পর সায়ন্তিকা সোজা পৌঁছে যান নিজের আসন এর প্রতিটি ভোট গ্রহণ কেন্দ্রগুলির পরিদর্শনে।বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের ১১৫ ও ১১৯ নম্বর মিউনিসিপ‍্যাল হাইস্কুলের দুটি বুথের ইভিএম মেশিন খারাপ থাকায় সাথে সাথেই তা পাল্টে দেওয়ার জন্য কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন সায়ন্তিকা।প্রসঙ্গত গত ফেব্রুয়ারি মাসে আচমকাই কোন রকম খবর ছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।এরপর তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার পর বাঁকুড়া কেন্দ্র থেকে তাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকে বেশ কয়েক দিন জোরকদমে প্রচার চালিয়েছেন এই অভিনেত্রী। যদিও প্রথমে তাকে বাঁকুড়ার বিদায়ী বিধায়ক শম্পা দরিপা এবং অন্যান্য নেতৃত্ববর্গের সামনে বহিরাগত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ আজ ৩রা এপ্রিল শনিবার সপ্তাহের শেষ দিন কেমন কাটবে আপনাদের? জানাচ্ছেন বিশিষ্ট জ্যোতিষীরা

কিন্তু পরে নিজের ভালোবাসা এবং জনসংযোগ দ্বারা সকলের মন জয় করে নেন অভিনেত্রী। আপাতত নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পরেই বাঁকুড়া কেন্দ্রের ভাগ্যের সঙ্গে সায়ন্তিকার ভাগ্য জড়িয়ে যাবে কিনা তা জানা যাবে। তবে তার আগে পর্যন্ত অনেকটাই ধোঁয়াশা বজায় থাকছে রাজনৈতিক মহলে।অপরদিকে নন্দীগ্রামে আজ দ্বিতীয় দফার ভোটকে কেন্দ্র করে বেলা বাড়তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।নন্দীগ্রামের একটি বুথে দুপুরের দিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত হলে হঠাৎ করেই সেখানে স্থানীয় ভোটাররা তাকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।এমনকি মমতা সেখান থেকে চলে না যাওয়া পর্যন্ত ভোট গ্রহণ পর্ব শুরু হবে না বলেও দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখনো পর্যন্ত সেই আসনে টালমাটাল রয়েছে পরিস্থিতি। ইতিমধ্যেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরকে ফোন করে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তবে তা সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।