ভাঙল সব রকম রেকর্ড! ২৪ ঘণ্টায় ১.২৬ লক্ষ করোনা আক্রান্ত ভারতে

নিজস্ব প্রতিবেদন:-গত বছর সেপ্টেম্বর মাসের পর আবার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকেই ভারতে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। গত দিন দুয়েক ধরে দেশের দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে লক্ষাধিকের উপর।আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অর্থাৎ এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে আক্রান্তের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি এপ্রিল মাসের শেষের দিকে ভারতে দৈনিক ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পৌঁছে যাবে ২ লক্ষের উপর। এমনকি চিকিৎসকদের দাবি এই আক্রান্ত রোগীদের ওপর ভ্যাকসিন কার্যকরী নাও হতে পারে। তার কারণ ইতিমধ্যেই দেশে ভাইরাসের বেশ কয়েকটি বিদেশী প্রজাতির আগমন ঘটেছে। এই বিদেশী প্রজাতির গুলির মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিলীয় এবং ব্রিটিশ স্ট্রেন।বিশেষত দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিলীয় প্রজাতির উপর ভ্যাকসিন একেবারেই কার্যকর নয় বলতে গেলে। অপরদিকে ব্রিটিশ প্রজাতিতে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুহার প্রচন্ড পরিমানে বেশি। যার প্রভাব দেখা যাচ্ছে ভারতের পাঞ্জাবে। প্রসঙ্গত এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে
মহারাষ্ট্র রাজ্য। এই রাজ্যের মুম্বাই, পুনে প্রভৃতি শহরগুলি আপাতত আক্রমণের দিক থেকে শোচনীয় অবস্থায় পৌঁছেছে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট ,তামিলনাড়ু, কেরল, রাজস্থান, তেলেঙ্গানা এবং পশ্চিমবঙ্গে ক্রমাগত বাড়ছে ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

আরও পড়ুনঃ লাঞ্চে ভাত, পেঁয়াজ ও রসুন! সিকিউরিটি গার্ডের এই খাবারের ছবি দেখে আবেগপ্রবণ নেটদুনিয়া

প্রসঙ্গত চলতি বছর জানুয়ারি মাসে দেশে ভ্যাকসিন চালু হওয়ার পর থেকেই মানুষের সতর্কবার্তা মানা যেন একেবারেই কমে গিয়েছে। প্রথম দফায় দেশে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় দফায় সমস্ত ষাটোর্ধ্ব বয়স্ক ব্যক্তি এবং ৪৫ বছরের উপর যাদের শারীরিক সমস্যা রয়েছে তাদেরকেই টিকা দেওয়া হয়েছিল। তবে এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল শারীরিক সমস্যার নথিপত্র। তবে চলতি এপ্রিল মাস থেকে কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী সমস্ত ৪৫ বছরের উর্ধ্বে ব্যাক্তিদেরকে টিকা দেওয়া হবে। প্রথম টিকা নেওয়ার ঠিক ৫৬ দিন অর্থাৎ ৮ সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার ভ্যাকসিনের ডোজ নিতে হবে। প্রথমে এই দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান ২৮ দিনের হলেও পরবর্তীতে তা কার্যকারিতা বেশি পাওয়ার লক্ষ্যে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।তবে রাজনৈতিক ভাবে আলাদা কিছু ব্যক্তিদের মতানুযায়ী ভ্যাকসিন এর সংখ্যা হ্রাসের ফলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আসুন এবার এক নজরে গতকাল রাজ্যের ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর পরিসংখ্যান এর দিকে নজর রাখা যাক।

আরও পড়ুনঃ আজ লক্ষ্মীবারে কোন রাশির ভাগ্যে কি পূর্বাভাস রয়েছে? জানাচ্ছেন আমাদের জ্যোতিষীরা

গতকাল বুধবার পশ্চিমবঙ্গে ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩৯০ জন। এর ফলে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬ লক্ষ্যের অত্যন্ত উপরে পৌঁছে গিয়েছে। গতকালের পরিসংখ্যান যোগ করার পর মোট আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬,০০,০২৪ জন। পাশাপাশি গতকাল ভাইরাস এর কবলে বলি হয়ে মৃত্যু ঘটেছে ৮ জন ব্যক্তির।মৃতদের মধ্যে ৩ জন করে কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা রয়েছেন। এ নিয়ে রাজ্যে মোট প্রাণ হারালেন ১০ হাজার ৩৬৩ জন। প্রসঙ্গত গতকাল রাজ্যে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৯ হাজার ৩১৪ জনের। এই নমুনা পরীক্ষার পর মোট সংক্রমণ হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.১৩ শতাংশ।তবে গতকাল তৃতীয় দফায় টিকাকরণ এর মাত্রা অত্যধিক পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে। বুধবার রাজ্যে টিকা পাওয়া মানুষের সংখ্যা ৩ লক্ষ্য ৩২ হাজার ১১৯ জন। অন্যান্য দিনের মতো গতকালও আক্রান্তের নিরিখে শীর্ষস্থানে ছিল কলকাতা। এদিন কলকাতায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭২২ জন। এরপর দ্বিতীয় স্থানে থাকা উত্তর ২৪ পরগনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪৮ জন। এরপর যথাক্রমে হাওড়ায় ২২৪,দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১২২, হুগলিতে ১২১, পশ্চিম বর্ধমানে ১১৩ , বীরভূমে ১০৯,দার্জিলিংয়ে ৫০, মুর্শিদাবাদে ৭৩, মালদহে ৮৩ এবং নদিয়াতে ৬২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদিন রাজ্যে আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার পরিমাণ অনেকটাই কমেছে। বুধবার রাজ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৮৭৬ জন।যার ফলে মোট সুস্থতার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫ লক্ষ্য ৭৫ হাজার ৩৭১ জন।