বিজেপির নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা অনেক কিছু করতে বাধ্য হচ্ছেন, ওদের কোনও দোষ নেই, জানালেন মমতা

নিজস্ব প্রতিবেদন:- নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারংবার তিনি দাবি করেছিলেন ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে কেন্দ্রের পাঠানো বাহিনী। প্রসঙ্গত ভোট ঘোষণা হওয়ার পরেই কিছুদিনের মধ্যেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আগমন ঘটতে থাকে। প্রথম দফায় প্রায় ২৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছিল রাজ্যে। এরপর ধীরে ধীরে ভোট শুরু হওয়ার সময় পর্যন্ত এই বাহিনীর আগমনের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ইতিমধ্যেই আটটি দফায় বাংলায় নির্বাচন সম্পন্ন করাকে নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তার উপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই ক্রমাগত আগমনের ফলে বেশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।সেই সূত্রেই বারংবার তিনি ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ জানিয়েছেন।যদিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তৃণমূল সুপ্রিমোর এই দাবি খারিজ করে দিয়েছে কমিশন।তবে প্রথম এবং দ্বিতীয় দফার ভোট সমাপ্ত হওয়ার পর তৃতীয় দফাতেই মুখ্যমন্ত্রীর কথার কিছু প্রমাণ দেখা যায়।তৃতীয় দফার ভোট চলাকালীন বেশ কয়েকটি জায়গাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় ভোটারদের অশান্তির খবর সামনে আসে। এমনকি অনেক জায়গাতে ভোটাররা ভোট দিতে না দেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর আক্রমণ শুরু করতে থাকেন।এমতাবস্থায় শেষপর্যন্ত আর উপায় না দেখে সিআরপিএফ নিয়ে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে।

আরও পড়ুনঃ বিজেপিকে যত তাড়াতাড়ি পারেন সরান, দেশকে বাঁচা; জনগণের কাছে আর্জি মমতার

যদিও মুখ্যমন্ত্রী সহ নির্বাচন কমিশনের এই পরিপ্রেক্ষিত একেবারেই মানতে নারাজ বিরোধীরা।বিশেষত এই ঘটনার পর বিরোধী শিবির এর তরফে নির্বাচন কমিশনের ওপর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনা হয়েছে।এদিন চতুর্থ দফার ভোট প্রচারে বলাগড়ে আয়োজিত এক সভায় অংশগ্রহণ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রসঙ্গে বিজেপিকে আক্রমণ করেন মমতা। সম্পূর্ণ দোষ বিজেপির এমনটাই দাবি করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন,”বিজেপির নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা অনেক কিছ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ওদের কোনও দোষ নেই”। সঙ্গে আরো যোগ করে মহিলাদের উদ্দেশ্য করে মমতাকে বলতে শোনা যায়,”সিআরপিএফ কোথাও গন্ডগোল করার চেষ্টা করলে মহিলারা ঘেরাও করবেন। তাই বলে সবাই মিলে ঘেরাও করে বসে থাকবেন না। ৫ জন ঘেরাও করবেন আর ৫ জন ভোট দিতে যাবেন। এটা বিজেপির চাল। সিআরপিএফকে ঘেরাও করতে গিয়ে যেন আপনারা ভোট না দিতে পারেন”।

আরও পড়ুনঃ দিলীপ ঘোষের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১৬, তৃণমূলের কাছে রিপোর্ট তলব কমিশনের

গেরুয়া শিবিরের আগেই মুখ্যমন্ত্রীর এই কটাক্ষের প্রতিউত্তর দিয়েছেন সিপিএম নেতা রবীন দেব। তৃণমূল সুপ্রিমোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন,”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনো বিরোধী নেত্রীর মতো আচরণ করছেন। সংবিধানের শপথ নিয়ে এই ধরণের মন্তব্য করা যায় না। ওনার কোনও অভিযোগ থাকলে তা জানানোর সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে”। প্রসঙ্গত আগামী ১০ই এপ্রিল চতুর্থ দফার ভোট গ্রহণ করা হবে।এই পর্যায়ে ভোট নেওয়া হাওড়া, হুগলি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাকি অংশ,আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে।বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই প্রতিটি কেন্দ্র অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।সুতরাং এই দফায় যাতে আগের মত কোনরকম অশান্তি না দেখা দেয় তার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে ব্যবস্থা করে রাখার চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে নজরদারির পাশাপাশি সমস্ত রকমের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।রাজ্যজুড়ে জনসংযোগ এবং বাকবিতণ্ডার মাধ্যমে চলছে চতুর্থ দফার ভোটের প্রচার। এমতাবস্থায় কোন রকম ভাবেই অশান্তি দেখতে রাজি নয় নির্বাচন কমিশন। এখনো পর্যন্ত ঠিক একইরকমভাবে হুইল চেয়ারে করে প্রচার চালাচ্ছেন মমতা। তাই বিরোধী শিবিরের নেতারাও ভীত হয়ে রয়েছেন।যদিও তাঁদের কাজকর্মে এই আশঙ্কার কথা একটুও প্রকাশ পায়নি। তবে করোনা পরিস্থিতি বৃদ্ধির দরুন আপাতত খুব সাবধানতার
সাহায্যে প্রচার চালানো হচ্ছে।তার কারণ বিভিন্ন শোভাযাত্রা এবং মিছিলের ফলে ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে দেখা যাচ্ছে ক্রমাগত। তৃতীয় দফার ভোটের পরদিনই রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ২০০০ এর ওপর পৌঁছে গিয়েছে।