পড়াশুনার পাশাপাশি জুতো সেলাই-এর কাজ করেও নজর করা নম্বর পেলো মালদার এই পড়ুয়া

cobler boy got amazing marks পড়াশুনার পাশাপাশি জুতো সেলাই-এর কাজ করেও নজর করা নম্বর পেলো মালদার এই পড়ুয়া
পড়াশুনার পাশাপাশি জুতো সেলাই-এর কাজ করেও নজর করা নম্বর পেলো মালদার এই পড়ুয়া

তিনদিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল। ফল প্রকাশের পরই দেখা গিয়েছে এবারও প্রথম তালিকায় রয়েছে মফস্বলের জেলাগুলি। আর এদের মধ্যেই রয়েছে মালদার সঞ্জয় দাস। এমন জানা ও গিয়েছে পড়াশুনায় অত্যন্ত ভালো সে এবং স্বভাবে অত্যন্ত ভদ্র সে , তার বাড়ি মালদার চাঁচোল গ্রামে। পড়াশুনা করার পাশাপাশি পেশায় সে একজন মুচি। তবে উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট প্রকাশ হওয়ার পর জানা গিয়েছে যে সে উচ্চ মাধ্যমিকে ৯০ শতাংশ নম্বর পেয়েছে।

তার থেকে জানা যায় যে, ভবিষ্যতে সে ইংরাজি সাহিত্য নিয়ে পড়তে চায়। কিন্ত অর্থাভাব যেন তার স্বপ্নের বাড়িতে তালা লাগিয়ে দিয়েছে । রাজ্য জুড়ে লকডাউন চলার ফলে তার জুতো সেলাইয়ের কাজও ছিলো বন্ধ।

তবে রেজাল্ট বেরোনোর পরই তার বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন চাঁচোল-১ ব্লকের বিডিও সমীরণ ভট্টাচার্য। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই তাঁর মাকে বিধবা ভাতা চালু করে দিয়েছেন বিডিও। এছাড়াও তাকে আর্থিক সাহায্য পাঠিয়েছে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

আরও পড়ুনঃ আজকের রাশিফল মঙ্গলবার ২১ জুলাই ২০২০

সঞ্জয়ের যখন ১ বছর বয়স তাঁর বাবা পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে পরলোকগমন করেন। তারপর থেকে মা ই সব , মা ই দেখা শুনা করেছে তাকে , তাই পিতৃহীন এই সঞ্জয়ের পক্ষে এই লড়াইটা একেবারেই ছিলো তাঁর নিজের।
অর্থাভাবে তাকে এই জুতো সেলাই এর কাজ পাশ্ববর্তী কর্ম হিসাবে বেছে নিতে হয়েছে , তবুও সে হার মানেনি এবং করে দেখিয়েছে এমন নজরকাড়া রেজাল্ট ।

তাঁর লক্ষ এখন একটাই, সরকারি চাকড়ি জোগাড় করা এবং মায়ের দুঃখ কষ্ট ঘোচানো। কিভাবে তা সম্ভবপর হয়ে উঠবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চিন্তায় পড়েছে সে। তবে সঞ্জয়ের ভবিষ্যৎ পড়াশোনার জন্য সবরকম অর্থের সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন মালদা জেলা পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম। এরকম কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন যাপন করার পরেও এমন পারফরম্যান্স দেখে সবাই তাকে বাহবা দিচ্ছে তো বটেই !