৪৫ বছরের উর্ধ্বে সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের দেওয়া হবে করোনা ভ্যাকসিন

নিজস্ব প্রতিবেদন: দেশের ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত সংক্রমণের পরিস্থিতির মধ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল কেন্দ্র সরকার। প্রসঙ্গত বিগত কয়েক দিন ধরে ক্রমাগত মহারাষ্ট্র সহ দেশের অন্যান্য অংশে ভাইরাস মাত্রাতিরিক্ত রূপ ধারণ করেছে। বিশেষত করোনা ভাইরাসের বিদেশি প্রজাতিগুলো ভারতে প্রবেশ করে যাবার পর থেকেই আরো সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কারন এই সব বিদেশী প্রজাতির বিশেষজ্ঞ দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিলীয় ভ্যাকসিন একেবারেই কার্যকর নয়। তাই এই প্রজাতিতে আক্রান্ত মানুষদের খুব দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে যে সংক্রমনের পরিসংখ্যান ছিল ৩০-৪০ হাজারের মধ্যে হঠাৎ করেই এপ্রিল মাসের শুরুতে তার পৌঁছে গিয়েছে লক্ষাধীক সংখ্যায়। আগামী পরবর্তী কয়েক দিনের এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটেছে।গতকাল সোমবার পশ্চিমবঙ্গে মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯৬১ জন। এই পরিসংখ্যান যোগ করার পর মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫ লক্ষ ৯৫ হাজার ৫৭৬ জন। রবিবার এই দৈনন্দিন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৯৫৭ জন। গতকাল রাজ্যে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৬ হাজার ১৭৬ জনের। এর ফলে সংক্রমণ হার দাঁড়িয়েছে ৭.৪৯ শতাংশ।

আরও পড়ুনঃ সুজাতা মন্ডল খাঁ-র ওপর হামলার কী প্রতিক্রিয়া দিলেন সৌমিত্র খাঁ

সোমবার তৃতীয় দফায় রাজ্যে করোনা টিকা নিয়েছেন ১ লক্ষ্য ৫৪ হাজার ৩১৭ জন। এই নিয়ে রাজ্যে মোট টিকা পেলেন ৬১ লক্ষ্য ১২ হাজার ৮০৫ জন মানুষ।প্রসঙ্গত প্রত্যেক দিনের মতোই আক্রান্তের নিরিখে রাজ্যের শীর্ষস্থানে রয়েছে রাজধানী কলকাতা। সোমবার কলকাতায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬০৬ জন মানুষ।এরপর উত্তর ২৪ পরগনায় ৫০৩ জনের দেহে ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে। রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই দৈনন্দিন সংক্রমনের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, কোচবিহার প্রভৃতি জেলাগুলি।এখনো পর্যন্ত এইসব অঞ্চলে সংক্রমণের হার মোটামুটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রতিটি রাজ্যের কথা মাথায় রেখে এদিন কেন্দ্র সরকারের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয়,”৪৫ বছর বা উর্ধ্বে কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত কর্মচারীদের করোনা টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে কার্যকরীভাবে কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ রোখা যাবে”। এদিন কেন্দ্র সরকারের স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ এই প্রসঙ্গে জানান,”অনেকেই জিজ্ঞাসা করছেন যে কেন আমরা সকলের জন্য টিকাকরণ প্রক্রিয়া শুরু করিনি। এরকম টিকাকরণ প্রক্রিয়ায় দুটি লক্ষ্য থাকে – মৃত্যু আটকানো এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে রক্ষা করা। যাঁরা চান, তাঁদের টিকা প্রদান করা লক্ষ্য নয়। বরং যাঁদের দরকার, তাঁদের টিকা প্রদান করা হল লক্ষ্য”।

আরও পড়ুনঃ বিজেপি কর্মীর মৃত্যুতে চাঞ্চল্য দুবরাজপুরে নেপথ্যে তৃণমূল, অভিযোগ বিজেপির

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বর্তমানে জানুয়ারি মাস থেকে প্রথম দফার ভ্যাকসিনেশনে সমস্ত চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকাকরণ সম্পন্ন করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় মার্চ মাসের ষাটোর্ধ্ব সমস্ত বয়স্ক ব্যক্তি এবং ৪৫ বছরের উপর যাদের শারীরিক সমস্যা রয়েছে তাদেরকেই একমাত্র টিকা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু ভাইরাস সংক্রমণের পরিস্থিতির বাড়বাড়ন্ত দেখে চলতি এপ্রিল মাস থেকে সকল ৪৫ বছরের উর্ধ্বে ব্যক্তিদের শারীরিক সমস্যার নথিপত্র ছাড়াই টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় এই টিকাকরনের কর্মসূচি শুরু হয়ে গিয়েছে। আপনিও যদি কেন্দ্রীয় সরকারের এই নতুন নিয়মাবলীর আয়ত্তে এসে থাকেন তাহলে নিকটবর্তী টিকাকরণ কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করে আজই নিজের করোনা টিকা সম্পন্ন করুন। সম্প্রতি সাধারণ মানুষ জন ছাড়াও বলিউড সেলিব্রেটিদের মধ্যেও থাবা বসিয়েছে করোনাভাইরাস। গতবছর প্রথম এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন বিখ্যাত অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। তারপর আমির খান, কার্তিক আরিয়ান, অক্ষয় কুমার, ভূমি পেডনেকার, ভিকি কৌশল ,ক্যাটরিনা কাইফ, রণবীর কাপুর, আলিয়া ভাট, সঞ্জয় লীলা বানসালি, পরেশ রাওয়াল, অর্জুন কাপুর, মালাইকা আরোরা সহ আরো অনেকেই এই ভাইরাসের কবলে পড়েছেন।