‘প্রসেনজিতের জন্য নায়ক হওয়া হলনা’, বিস্ফোরক অভিযোগ শিলাজিৎ মজুমদারের

নিজস্ব প্রতিবেদন: প্রতিটি বাঙালীর মনেই নিজের জীবনমুখী গানের মাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছেন শিলাজিৎ মজুমদার। হেমলক সোস্যাইটি হোক বা এক্স=প্রেম তার আ্যলবাম এর গান এখনো ঘোরে লোকের মুখে মুখে। মূলত গায়ক হিসেবেই তিনি বিশেষ সুখ্যাতি পেয়েছেন বরাবরই। কিন্তু এহেন শিল্পীর গায়ক হওয়ার পাশাপাশি অভিনয় জগতের প্রতিও ছিল সমান আকর্ষণ। বেশ কিছু ছবিতে তিনি অভিনয় ও করেছিলেন দারুন দক্ষতার সাথে। কিন্তু তার পাকাপাকি ভাবে নায়ক হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে। এবার এই নিয়েই সরাসরি মুখ খুললেন তিনি।

তার কথায় এই ইচ্ছে তার এমনি এমনি জন্মায়নি বরং পরিচালকদের অস্বাসেই তিনি নায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন। বিখ্যাত পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী নিজেই নাকি শিলাজিৎ কে জানিয়েছিলেন, “শিলাজিৎ তোকে আমি পরের ছবিতে মুখ্য নায়ক করব। তুই আমার এই ছবিটা করে দে”। স্বাভাবিক ভাবেই এহেন অস্বাসে যেকোন মানুষেরই নায়ক হওয়ার প্রতি আলাদা ইচ্ছার জন্ম নেবে। কিন্তু ছবি রিলিজ হওয়ার পরই উলাটপুরণ। “ছবি শেষ হওয়ার পর বুম্বাদা অর্থাৎ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বেশি মিষ্টি দেখতে হয়ে গেল!”।

শুধু তাই নয় আরো এক পরিচালকের কথা জানিয়েছেন তিনি। যদিও তার নাম একবার ও মুখে নেননি তিনি। এবিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে বর্তমানে একজন তথাকথিত বড়ো পরিচালক আছে যিনি আগে প্লাস্টিকের ব্যবসা করতেন। এমনকি তিনি নাকি আমার গানের এতই ভক্ত ছিলেন যে সবসময় আমার পিচুপিছু ঘুরতেন। কিন্তু আজ কম করে ১৫ টা ছবির কাজ সারলেও আমাকে গানের সুযোগ দেয়নি।

এছাড়াও তিনি জানান এই ইন্ডাস্ট্রিতে আমার বন্ধুসম এমন কমপক্ষ ৩০-৪০ জন আছেন যাদের দরকারে আমি সাহায্য করে গিয়েছি। তাদের বেশীর ভাগ জনই সেই উপকারের কথা ভুলে গিয়েছে পরবর্তীতে। তার কোন দামই তারা দেয়নি। এর পরই যোগ করেন, “সেই কারনেই এখন বিখ্যাতদের থেকে দূরে থাকি আমি।”

এর পাশাপাশি টলি ইন্ডাস্ট্রিতে বর্তমানে চর্চায় উঠে এসেছে সৃজিতের সাথে শিলাজিৎ এর দ্বন্দ্ব। মূলত সৃজিতের ‘রে’ মুক্তি পাওয়ার পরই নাম না করে শিলাজিৎ এর কটাক্ষ, “আমার গান ব্যবহার করে কেউ কেউ কোটি টাকা কামাচ্ছে। এদিকে আমার বকেয়া টাকা আটকে রেখেছে। আমি মেল করলে তার রিপ্লাই ও দিচ্ছেনা।”

এর পরেই অভিমানের সুরে তিনি বলেন যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকতো বা বকেয়া অর্থ গুলো আমায় মেটানো হতো তাহলে এই লকডাউন টা হয়তো আমার অন্যরকম কাটতো। তবে তিনি জানান তার ছেলে ধী মজুমদার বর্তমানে একটি চাকরি পেয়েছেন। যার জন্য তিনি খুবই খুশী। এবং তার ছেলেই বর্তমানে বাবা-মা র দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে এতো কিছুর মাঝেও যে পুরানো স্মৃতি বারবার ফিরে ফিরে আসে সেকথাও জানালেন তিনি।

আরও পড়ুন

Back to top button