Gazi Abdun Noor: বাংলাদেশের ‘ধর্মীয়’ বিশৃঙ্খলার তীব্র প্রতিবাদ করলেন ‘রাণী রাসমণি’র রাজচন্দ্র!

এই বছর দুর্গাপূজায় বাংলাদেশের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কট্টরপন্থী মুসলমানরা হিন্দু মন্দির,দুর্গাপুজার মন্ডপ ভেঁঙে সেগুলিকে পুড়িয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয় রংপুর, গাজীপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মুসলিমদের দাবি দেবী দুর্গার পায়ের কাছে নাকি কোরান শরীফ রাখা হয়েছিল। এই বিষয়টি তারা মেনে নিতে না পারায় হিন্দু দেবতা ও হিন্দুদের আক্রমণ করে। শুধু তাই নয় কট্টরপন্থী মুসলিমরা হিন্দুদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিতে শুরু করে এবং বাংলাদেশের ইসকনেও আক্রমণ চালানো হয়। এরপরে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।

সমগ্র ঘটনাটি নিয়ে নিন্দা করেছেন বহু মানুষ। বাংলাদেশের কট্টরপন্থী মুসলিমরা হিন্দুদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিলেও নরমপন্থী মুসলিমরা হিন্দুদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সমগ্র বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ মুখর হয়েছে বাংলাদেশের হিন্দু ও মুসলিম সমাজ। কিন্তু যেহেতু বিষয়টি মুসলিমরা করেছে সেহেতু সমগ্র মুসলিম জাতিকে দোষারোপ করছে হিন্দুদের কয়েকটি দল। আবার সোশ্যাল মিডিয়াতেও মুসলিমদের বিভিন্ন ভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। ঠিক তেমনভাবে মুসলিমরাও আবার হিন্দুদেরকে বিভিন্ন রকম যুক্তি সাজিয়ে আক্রমণ করছেন। এভাবে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছে দুটি সম্প্রদায়িক দল। সমগ্র বিষয়টির প্রতিবাদ করেছেন বহু সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। এবারে এই বিষয়ে মুখ খুললেন গাজী আব্দুন নূর।

গাজী আব্দুন নূর ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’ ধারাবাহিকে রাণী রাসমণির স্বামীকে চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন বারংবার। তাঁর জন্ম এবং বড়ো হয়ে ওঠা বাংলাদেশে। কাজের সূত্রে কলকাতায় আসা তাঁর। ফলে এপার বাংলা, ওপার বাংলা – দুই বাংলার মানুষদের কাছেই তিনি প্রিয় অভিনেতা। তাঁর বাড়ির বহু লোক যুক্ত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সাথে। গাজীর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যরাই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী গাজীকে প্রভাবিত করেছে বারবার। তাই তিনি তাঁর দেশের মানুষের পাশে থাকতে চান সশরীরে। ধর্মকে প্রাধান্য দেন না তিনি। তাই তিনি তাঁর অনুরাগীদের কাছে অনুরোধ করেছেন ফেসবুকে প্রতিবাদ না করে সশরীরে প্রতিবাদ জানাতে।

গাজি আবদুন নূর ফেসবুকে লিখেছেন, হিন্দু মরলে হিন্দু কষ্ট পাবে, এই কথা না ভেবে মানুষ মরলে মানুষ কষ্ট পাবার কথা ভাবা উচিত সকলের। আর তিনি মনে করেন যে প্রতিটি পরিবারের উচিত ছোট থেকে সবাইকে মানবিকতার শিক্ষা দেওয়া। তাঁর দাবি এইভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হিন্দু ও মুসলমানদের উস্কানি দিয়ে একে অপরকে প্ররোচনা দিচ্ছেন। তিনি মনে করেন এইভাবে এই প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের ইতিহাস সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে না সকলের কাছে। এই কারণে ধর্মের দোহাই দিয়ে অনেকেই পাকিস্তানকে সমর্থন করছেন। কিন্তু এইভাবে পরিস্থিতি আরোও খারাপের দিকে এগোবে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বৃদ্ধি পাবে। তাই সকলের উচিত একসাথে প্রতিবাদ করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

Back to top button