ছেলের মাসিক আয় ৪০ লক্ষ টাকা তবু বাবা আজও চা বিক্রী করেন!

কলকাতা হান্ট ডেস্কঃ আপনি নিশ্চয় ধর্মেশ ইয়েল্যান্ডের নাম শুনেছেন? বর্তমানে তিনি প্রথম সারির কোরিওগ্রাফারদের মধ্যে একজন। তার প্রচুর যশ এবং খ্যাতি থাকা সত্বেও তাঁর বাবা আজও চা বিক্রী করে সংসার চালান! তার যাত্রা শুরু হয়েছিল ডান্স ইন্ডিয়া ডান্স- এর হাত ধরে। ধর্মেশের অডিশন নেন বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার রেমো ডিসুজা, গীতা কাপুর এবং টেরেন্স লুইস।

আরও খবরঃ- Koel Mallick: মায়ের হাত ধরে ব্যাডমিন্টন শিখতে চায় ছোট্ট কবীর, অন্তরঙ্গ ভিডিও শেয়ার কোয়েলের

প্রথম দিকে বিচারকদের তাঁকে বিশেষ মনে ধরেনি। তবে ধর্মেশ ধীরে ধীরে নিজেকে প্রমাণ করে বিচারকদের মন জয় করে নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর খেতাব পাননি তিনি, তবে খেতাব না পেলেও, ধর্মেশকে আর কখনো ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘ডান্স ইন্ডিয়া ডান্স’ এর পরই তিনি রেমো ডিসুজা পরিচালিত ‘এবিসিডি’ তে অভিনয় করার সুযোগ পেয়ে যান।

এরপর জনপ্রিয় ডান্স রিয়েলিটি শো ‘ডান্স প্লাসে’ বিচারকের পদে অভিষেক হয় তার। এই ধর্মেশের শৈশব অত্যন্ত আর্থিক অনটনের মধ্যে দিয়ে কেটেছে। ধর্মেশের বাবার একটি ছোট চায়ের দোকান ছিল। সেখান থেকে যা উপার্জন হতো, তাই দিয়েই সংসার চলত ধর্মেশদের। কিন্তু হঠাৎ একদিন পৌরসভা ধর্মেশের বাবার সেই চায়ের দোকান ভেঙে দেয়। এরপর তাদের আর্থিক কষ্ট আরও বাড়তে থাকে।

আরও খবরঃ- নুসরতের সন্তানের বাবা যশ, খবর প্রকাশ্যে আসতেই চটলেন অনুরাগীরা, অভিনেতাকে বয়কটের ডাক নেটদুনীয়ায়

তবুও হাল ছাড়েননি ধর্মেশ। শত কষ্টের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। প্রথম থেকেই তার নাচের প্রতি বিশাল ঝোঁক ছিল। তাই সংসারে অভাব থাকা সত্ত্বেও ধর্মেশকে তার বাবা একটি ডান্স অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করে দেন। কলেজে পড়াকালীন সংসারের অভাবের কথা ভেবে বাধ্য হয়ে পিয়নের কাজ করতে শুরু করেন। পাশাপাশি বাচ্চাদের নাচও শেখাতেন তিনি। এর থেকে যা অল্প কিছু উপার্জন করতেন তার পুরোটাই সংসারে খরচ করে ফেলতেন। এরপর অভাব মেটাতে বহু বলিউড ছবির ব্যাকআপ ডান্সার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।

অনেক বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে শেষপর্যন্ত ধর্মেশ ডান্স ইন্ডিয়া ডান্স- এর মঞ্চে এসে পৌঁছান। ওই মঞ্চই তার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাড়ায়। এখন তাকে সবাই এক ডাকে চেনে। ছেলের এত সাফল্য দেখা সত্বেও ধর্মেশর বাবা তার পুরনো পেশাকে ভুলে যাননি। তাই ধর্মেশের বাবা তার ছেলের সমস্ত বারণকে না মেনে আজও তার ছোট্ট চায়ের দোকানে গিয়ে আনন্দ সহকারে চা বিক্রি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

Back to top button