করোনায় মৃত্যু হয়েছে বাবার, মা-ভাই হাসপাতালে ভর্তি; তারপরেও কঠোরভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন চিকিৎসক

করোনায় মৃত্যু হয়েছে বাবার,মা-ভাই হাসপাতালে ভর্তি;তারপরেও কঠোরভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন চিকিৎসক

কলকাতা হান্ট ডেস্কঃ করোনাভাইরাস এর দ্বিতীয় ঢেউ দেশের বিভিন্ন অংশে যেইভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে তাতে মানুষের মধ্যে মানবিকতা বজায় রাখা দুঃসাধ্য ব্যাপার। তবুও বিভিন্ন জায়গা থেকে আমরা চিকিৎসকদের মধ্যে ভগবানের রূপ দেখতে পাচ্ছি। কারণ হাজারো বাধা—বিপত্তি সহ নিজেদের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন চিকিৎসকেরা। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস অবধি রোগীদের প্রাণ বাঁচানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। করোনাভাইরাস এর ফলে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলিতে ক্রমাগত মৃত্যুসংবাদ সামনে আসছে।এরমধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, ছত্রিশগড়, দিল্লি প্রভৃতি। লকডাউন শুরু করার পরেও এই রাজ্যগুলিতে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যায় বিশেষ কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। সম্প্রতি এমন এক ঘটনার খবর মানুষের সামনে এসেছে যা চোখে জল এনে দিতে বাধ্য।

ডাক্তার মুকুন্দের গল্প অনেকটাই ঠিক এরকম। পুনের সঞ্জীবন হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন তিনি।কিছুদিন আগেই করোনাভাইরাসের করালগ্রাস এর ফলে তার পিতার মৃত্যু হয়েছে।এরপর তাঁর মা এবং ভাইও করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ফলস্বরূপ ক্রমাগত কাছের মানুষের চিন্তায় এই ডাক্তারের দিন কাটছে। কিন্তু তার পরেও এক ফোঁটা নিজের কর্তব্য থেকে সরে আসেননি তিনি।পরিবারের খেয়াল রাখার পাশাপাশি নিয়মিত হাসপাতালের সকল রোগীদের সেবা করে চলেছেন মুকুন্দ। এক মুহূর্তের জন্যেও কাজ থেকে ছুটি নিতে দেখা যায়নি তাকে। এক ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে এই চিকিৎসক জানিয়েছেন,”বর্তমান পরিস্থিতি খুবই কঠিন। আমরা কখনই হাতে হাত রেখে চুপচাপ বসে থেকে মানুষের মৃত্যু দেখতে পারব না”।চিকিৎসকদের কাজ মানুষের প্রাণ বাঁচানো;তাই স্বাভাবিকভাবেই কখনো মৃত্যুর এই ঘন্টা দেখার পরও চুপ থাকা যায় না।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার ভারতে দৈনিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ্য ৫৭ হাজার ২২৯ জন।এবং গতকাল মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৪৪৯ জনের।ইতিমধ্যেই ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে আমেরিকা, জাপান, সৌদি আরব, বাংলাদেশ, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন, ভুটান সহ নানা দেশ। প্রায় সব জায়গা থেকেই ভ্যাকসিন এবং অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ এই মুহূর্তে দেশের সবথেকে বেশি ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে অক্সিজেন সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে।প্রায় দিনই বিভিন্ন জায়গা থেকে অক্সিজেনের অভাবে মানুষের মৃত্যুর খবর সামনে আসছে।বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউ এতটাই শক্তিশালী যে খুব সহজেই তা মানুষের ফুসফুস কে আক্রমণ করে ফেলছে। ফলস্বরূপ শ্বাস প্রশ্বাস প্রক্রিয়া একপ্রকার ব্যাহত হয়ে গিয়েছে।