কলকাতা পুরসভার পুরপ্রশাসকের পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদের! রাজনৈতিক কারণ নাকি অন্য কিছু? জেনে নিন বিশদে!

নিজস্ব প্রতিবেদন: সোমবার আচমকাই কলকাতা পুরসভার পুরপ্রশাসকের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন মমতা ঘনিষ্ঠ ফিরহাদ হাকিম। বেশ কিছুদিন ধরেই ফিরহাদের জামাইয়ের সঙ্গে তৃণমূলের বিরোধ প্রকাশ্যে এসে পড়েছিল। এমনকি তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ফিরহাদ এর জামাই ইয়াসির হায়দারের নাম না থাকায় ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করার পরপরই দল ত্যাগ করেন তিনি। এমতাবস্থায় ফিরহাদ এর হঠাৎ ইস্তফা অনেকটাই জল্পনার সৃষ্টি করেছে। তবে কারণ হিসেবে জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী এমন কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন ফিরহাদ।প্রসঙ্গত নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে রাজ্যের পুরসভাগুলিতে প্রশাসক বা প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান পদে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে রাখা যাবে না বলেই এমন নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন: ‘বিজেপির এই ইস্তেহার বহিরাগতদের পক্ষে এবং বহিরাগতদের জন্যই’, কটাক্ষ নুসরতের!

রাজ্য রাজনীতিতে একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির কথা উঠলেও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই নেতা।নির্বাচনের প্রাক্কালে একের পর এক নেতারা তৃণমূল নেতারা দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগদান করলেও একনিষ্ঠভাবে মমতার সাথে রয়েছেন ফিরহাদ। সম্প্রতি নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবেও নাম রয়েছে তার। প্রসঙ্গত এর আগেও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসারে রাজ্যের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ আইপিএস অফিসারদের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। কমিশনের মতানুযায়ী ভোটে যাতে কোনরকম ভাবে প্রভাব না পড়ে তার জন্যই এহেন সিদ্ধান্ত।দিন কয়েক আগেই বদল করা হয়েছে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং এডিজিকে।

আরও পড়ুন: বরের প্রতি বর্বরতার অভিযোগ; নেট দুনিয়ায় ভাইরাল তিয়াসা রায়ের ভিডিও

চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে অনেকাংশেই তারকা সমাবেশ লক্ষ্য করা গিয়েছে। তৃণমূলের প্রকাশিত প্রার্থী তালিকায় পরিচালক রাজ চক্রবর্তী, সায়নী ঘোষ, জুন মালিয়া, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে রয়েছে আরো অনেকের নাম। অপরদিকে বিজেপির প্রকাশিত প্রথম চার দফার প্রার্থী তালিকাতেও দেখা গিয়েছে একাধিক তারকাদের যোগদান।অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় প্রায় সকলেই রয়েছেন এখানে।মূলত বিধানসভা নির্বাচনে জনসংযোগ এবং প্রচার কাজের জন্য তারকাদের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চাইছে বাংলার প্রধান রাজনৈতিক দল দুটি।নবান্ন দখলে লড়াইতে তাদের এই জনপ্রিয়তা অনেকটাই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। আগামী ২ রা মে প্রকাশিত হবে নির্বাচনী ফলাফল।ঠিক সেদিনই জানা যাবে বাংলায় প্রাধান্য বিস্তার করতে চলেছে কোন রাজনৈতিক দলের ব্যাক্তিত্বরা।