সিদ্ধিদাতা ভগবান গণেশের পুজোর ক্ষেত্রে কয়েকটি বিশেষ নিয়ম মেনে চলুন নাহলে দেখা দিতে পারে ঘোর বিপদ

সিদ্ধিদাতা ভগবান গণেশের পুজোর ক্ষেত্রে কয়েকটি বিশেষ নিয়ম মেনে চলুন নাহলে দেখা দিতে পারে ঘোর বিপদ

কলকাতা হান্ট ডেস্কঃ হিন্দুদের মধ্যে দেব দেবীর পূজার গুরুত্ব অনেকখানি। যেকোনো শুভ কাজ বা অনুষ্ঠান শুরু করার আগেই আমরা দেবতাদের আরাধনা করতে অত্যন্ত ভালবাসি। কারণ দেবতাদের আরাধনা করার মাধ্যমে আমরা সেই কাজে সফলতা লাভ করবো এমনটাই ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছে।যেকোনো শুভ কাজ শুরু করার আগে সাধারণত সিদ্ধিদাতা গণেশ এবং ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মী ঠাকুরের পুজো করা হয়। দোকান এবং বাড়ি সব জায়গাতেই এই ঠাকুরের পুজো প্রচলিত। নববর্ষের অনুষ্ঠান হোক বা কোন দোকানের উদ্বোধন সব জায়গাতেই দেবতার পূজার মাধ্যমেই কাজ শুরু করা হয়। দেবাদিদেব মহাদেব এবং দেবী দুর্গার অত্যন্ত আদরের সন্তান এই সিদ্ধিদাতা গণেশ। পুরান মতে হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে যে কোন পুজো শুরু করার আগেই গণেশ ঠাকুরের পুজো করা হয়।

কিন্তু অন্যান্য দেবতাদের মত গণেশের পুজোর ক্ষেত্রেও বিশেষ কয়েকটি নিয়মাবলী রয়েছে। নিয়মগুলি না মেনে চলতে পারলে আপনার জীবনে দেখা দিতে পারে ঘোর বিপদ।তাই সিদ্ধিদাতা গণেশের ভক্ত হয়ে থাকলে বা নিয়মিত এই দেবতার পূজো করে থাকলে অবশ্যই আমাদের এই প্রতিবেদনটি হাতে সময় নিয়ে ভালো করে মনোযোগ সহকারে পড়ার চেষ্টা করুন। কারণ এই নিয়ম গুলি ভালো করে মেনে চলতে পারলে আপনার সংসারে সুখ এবং সমৃদ্ধি উপছে পড়বে। যেকোনো রকম অশুভ শক্তি থেকে আপনার পরিবার খুব সহজেই রক্ষা পেতে পারে। গণেশ পুজো করার ক্ষেত্রে প্রথমেই একটি কথা মাথায় রাখবেন পুজোর আগে ভালো করে সারা বাড়ি পরিষ্কার করা অতি আবশ্যক।এরপর স্নান সেরে বিশেষ মন্ত্রের মাধ্যমে দেবতা গণেশের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে হয়। এই মন্ত্র ঋক বেদ বা গণেশ সুক্তায় বর্ণিত রয়েছে।

দ্বিতীয়ত প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর সিদ্ধিদাতা গণেশের সামনে ধুপ, প্রদীপ জ্বালিয়ে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে আরতি করতে হবে।সেইসঙ্গে ষোড়শপচারে দেবতা গণেশের আরাধনা করতে হয়। পুজো ছাড়াও বিশেষ কয়েকটি জিনিস খেয়াল রাখবেন। যেমন—গণেশ দেবতার মূর্তির মাথায় লাল চন্দনের টিকা এঁকে সামনে ২১টি দূর্বা ঘাস ও লাল ফুল সাজিয়ে রাখুন। ঠাকুরের সামনে নারকেল ভঙ্গ করে অশুভ শক্তিকে দূর করতে হবে।এরপর দেবতার ১০৮ নাম জপ করে করজোড়ে পরিবারের সদস্যদের সুখ, সমৃদ্ধি প্রার্থনা করতে হবে। গণেশ পুজোর ক্ষেত্রে সব সময় চেষ্টা করবেন প্রসাদে লাড্ডু এবং মোদক ব্যবহার করার।কারণ এই দুই মিষ্টান্ন দেবতা গণেশের অত্যন্ত প্রিয় একটি খাবার। গণেশ ঠাকুরের পুজো করার জন্য বিশেষভাবে ব্রাহ্মণ পুরোহিত এর প্রয়োজন নেই। নিজেই বাড়িতে এই দেবতার পুজো করতে পারেন।

মনে রাখবেন,যিনি প্রতি দিন ত্রিসন্ধ্যায় গণেশের দ্বাদশ নাম বা স্তোত্র পাঠ করেন, তাঁর সমস্ত বাধা বিপত্তি দূর হয় তথা সমস্ত মনস্কামনা পূরণ হয়। যে বিদ্যার্থীর বিদ্যার্জনে বাধা আছে সে যদি গণেশ স্তোত্র লিখে আট জন ব্রাহ্মণকে দান করে সে গণেশের কৃপা লাভ করে তথা বিদ্যাদেবী তার প্রতি সহায় হন। গণেশ পূজার মন্ত্র টি হল—“ওঁ হস্তিমুখায় লম্বোদরায় উচ্ছিষ্ট মহাত্মনে আং ক্রীং হ্রীং ক্লীং হীং হুং খে খে উচ্ছিস্টায় স্বাহা”।মূর্তি স্থাপন করার ক্ষেত্রেও এই পুজোয় কয়েকটি বিশেষ জিনিস লক্ষ্য করার মত রয়েছে।এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে বাড়ির ঠাকুর ঘরে সাদা গনেশ ঠাকুরের মূর্তি স্থাপন করলে পরিবারের অন্দরে কোনও সময় কোনও ধরনের কলহ বা অশান্তি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা একেবারেই কমে যায়। গণেশ ঠাকুরের মূর্তি কেনার সময় নজরে রাখবেন যেন মূর্তির হাতে মোদক এবং পায়ের কাছে বাহন থাকে। কারণ এই ধরনের ঠাকুরের মূর্তি বাড়িতে রাখা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।