রাজমিস্ত্রির স্ত্রী থেকে সোজাসুজি বিধায়ক, জেনে নিন চন্দনা বাউরীর অজানা গল্প

রাজমিস্ত্রির স্ত্রী থেকে সোজাসুজি বিধায়ক, জেনে নিন চন্দনা বাউরীর অজানা গল্প

কলকাতা হান্ট ডেস্কঃ একুশের বিধানসভা নির্বাচনে আমরা নানান ধরনের নতুনত্ব দেখেছি।একদিকে যেমন এই বিধানসভা নির্বাচনে তারকাদের ঝলক দেখা গিয়েছিল প্রত্যেক রাজনৈতিক দলেই;ঠিক তেমন ভাবেই অনেক রাজনৈতিক দলে এমন অনেক প্রার্থীদের দেখা গিয়েছে যাদের ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে খাবার-দাবারের সুব্যাবস্থা নেই বললেই চলে। এককথায় সাধারণত নেতা-মন্ত্রী বলতে আমরা ধনী ব্যক্তিদের কেই বুঝি। কিন্তু সেই ভাবনা একেবারেই খারিজ করে দিয়েছেন বিজেপির দুই প্রার্থী বাঁকুড়ার শালতোড়ার চন্দনা বাউরী এবং পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রামের কলিতা মাঝি। এদের মধ্যে চন্দনা একজন রাজমিস্ত্রির স্ত্রী ও অপরদিকে কলিতা একজন পরিচারিকা। কলিতা মাঝি নির্বাচনে পরাজিত হলেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন চন্দনা। এলাকার মানুষ পরবর্তী পাঁচ বছরে নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য এই অত্যন্ত গরিব পরিবারের গৃহবধূকেই বেছে নিয়েছেন।

জানিয়ে রাখি,বাঁকুড়ার শালতোড়া বিধানসভা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবার চন্দনা বাউরী পেয়েছেন ৯১৬৪৮টি ভোট। বিপরীতে তার প্রতিদ্বন্দ্বি সন্তোষ কুমার মন্ডল ৮৭৫০৩টি ভোট পেয়েছেন। অর্থাৎ ৪১৪৫ টি বিশাল সংখ্যক ভোটের ব্যবধানে জয় হাসিল করে নিয়েছেন চন্দনা। কেউ কখনো ভাবতেই পারেনি সামান্য এক রাজমিস্ত্রির স্ত্রী হওয়া সত্বেও নির্বাচনে জয়ের খাতায় এভাবে নাম লেখাবেন তিনি। কুলগোত্রহীন হওয়া সত্বেও তাবড় তাবড় নেতাদের হারিয়ে যেভাবে তিনি জয়ের সূচনা করেছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য।

ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চন্দনার এই অসাধারণ জয় ভাইরাল হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন থেকে শুরু করে সকলেই তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এদিন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে চন্দনা এবং তার স্বামীসহ সন্তানদের একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন,”তোমাকে নির্বাচনে জয়লাভ করতে দেখে আমি অত্যন্ত খুশি। তুমি মানুষের জন্য উদাহরণের একটি উৎস। তোমাকে অনেক শুভেচ্ছা রইল, সুস্থ থেকো চন্দনা”।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বিধায়কের খাতায় নাম লেখানো সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত স্বামী, দুই সন্তান এবং শাশুড়িকে নিয়ে খড়ের ঘরে বসবাস করেন চন্দনা।প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অন্তর্গত তার একটি বাড়ি তৈরি হলেও তা এখনো পর্যন্ত সম্পূর্ণ হয়নি। বাড়িতে একটি শৌচাগারের উপস্থিতি পর্যন্ত নেই।নুন আনতে পান্তা ফুরানোর এই সংসারে চন্দনা বাউরী নিজেও তার স্বামীর সাথে রাজমিস্ত্রির কাজে জোগাড়ের অর্থাৎ লেবারের কাজ করেন। নির্বাচনী হলফনামা থেকে জানা গিয়েছে তার সম্পত্তি বলতে রয়েছে তিনটি ছাগল এবং তিনটি গরু।নগদ হিসেবে চন্দনা এবং তার স্বামীর কাছে রয়েছে যথাক্রমে ৩১ হাজার ৯৮৫ টাকা ও ৩০ হাজার ৩১১ টাকা। এই অবস্থার মধ্যে থেকেও তিনি যেভাবে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন তা যেকোন সাধারণ মানুষের পক্ষেই একটি শিক্ষামূলক বিষয়।আমরা আশা করব সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে যেন চন্দনা এভাবেই নিজের জীবনের পথে এগিয়ে যেতে পারেন।