‘নন্দীগ্রাম নিয়ে চিন্তিত নই আমি। গণতন্ত্র নিয়ে চিন্তিত’; বললেন মমতা!

নিজস্ব প্রতিবেদন: মোটামুটি বেশ সুষ্ঠতার সাথেই রাজ্যে আজ দ্বিতীয় দফার বিধানসভা ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা হলো। প্রসঙ্গত আজ রাজ্যের হাইভোল্টেজ বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম সহ মেদিনীপুর ও বাঁকুড়ার বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর’ আসনে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ময়না, ডেবরা,কেশপুর সহ রয়েছে একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র।বিক্ষিপ্তভাবে হিংসার পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও মোটামুটি নির্বাচন কমিশনের তৎপরতায় বিশেষ কোনো বড় রকমের অশান্তি লক্ষ্য করা যায়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাঁকুড়ায় ভোটদানের হার ৮১.১৭ শতাংশ, পশ্চিম মেদিনীপুরে ভোট পড়েছে ৭৭.৭৮ শতাংশ, পূর্ব মেদিনীপুরে ভোটদানের হার ৮১.২৩ শতাংশ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভোট পড়েছে ৭২.৫৮ শতাংশ। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভোট হয়। এবার ইভিএম সিল করে তা স্ট্রং রুমে পাঠানোর কাজ চলছে।শেষ সময় পর্যন্ত মোট ভোটদানের হার ছিল ৮০.৪৩ শতাংশ। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, আজ নন্দীগ্রামে বেশ কয়েকটি জায়গায় অশান্তির খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। এর মধ্যে একটি বুথ থেকে গোলযোগের খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুনঃ ভারতকে বিশ্বকাপ এনে দেওয়া ১১ জন ক্রিকেটার আর কখনও একসঙ্গে মাঠে নামার সুযোগ পাননি কেন? প্রশ্ন তুললেন গম্ভীর

কিন্তু হঠাৎ করেই সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর বিজেপি সমর্থকদের একাংশ তার উপস্থিতিতে ভোট দিতে অস্বীকার করেন। যদিও এই ঘটনার পরপরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপাল কে অভিযোগ জানাতে বাধ্য হন। তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এই তুলকালাম পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিজেপির দাবি খুব শীঘ্রই নন্দীগ্রামে হারতে চলেছেন মমতা। তাই ভোট কেন্দ্রে তার উপস্থিতি সহ্য করতে পারছে না স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও বুথ পরিদর্শন করে আসার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান,”যিনি বিজেপির হয়ে এখানে দাঁড়িয়েছেন, তিনি তাণ্ডব চালিয়েছেন। অত্যাচার চালিয়েছেন। আমরা ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনে ৬৩ টি অভিযোগ দায়ের করেছি। নন্দীগ্রাম নিয়ে চিন্তিত নই আমি। গণতন্ত্র নিয়ে চিন্তিত। এখানে ভোটে চিটিংবাজি হয়েছে। মা-মাটি-মানুষের আশীর্বাদে আমি জিতব। সকাল থেকে ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু আমি যেতেই সবাই আমায় শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতি কোনও অভিযোগ নেই। তারা আমাদের বন্ধু। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশ কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী”।

আরও পড়ুনঃ সপ্তাহের শেষ দিনে আজ কেমন থাকবে তাপমাত্রা

বিরোধী শিবিরের পাশাপাশি আজ জয়পুর এর জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও নন্দীগ্রামে মমতার হারকে নিয়ে কটাক্ষ করেন।রীতিমতো আত্মবিশ্বাসের সাথে মমতাকে তার কাজের খতিয়ান তুলে ধরে মোদি বলেন,”দিদির হাবভাব দেখেই কী হতে চলেছে তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। প্রথমে হাওয়া বুঝে উনি ভবানীপুর থেকে নন্দীগ্রামে চলে এলেন। নন্দীগ্রামে সুবিধা হবে না বুঝে সেখানকার মানুষকে অপমান করতে শুরু করলেন। প্রথম দফার ভোটগ্রহণের পর উনি আরও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন। গতকালই দেশের বহু নেতাকে বার্তা পাঠিয়ে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন দিদি। বহিরাগত ওই সব নেতাকে উনি দেখা করার সময় পর্যন্ত দিতেন না। এখন বিপদে পড়ে তাদের সাহায্য চাইছেন। ১০ বছর মানুষের কাজ করলে কি এসব করতে হতো?যে দিদি এতদিন গালি দিচ্ছিলেন তিনি এখন বলছেন কুল কুল। কিন্তু বাংলার মানুষের জন্য তৃণমূল কুল নয়, শূল। বাংলাকে অসহ্য যন্ত্রণা দিয়েছে তৃণমূল নামের এই শূল”।