বাংলার ঘরে ঘরে আজ পূজিত হচ্ছেন মা মনসা, জেনে নিন এই উৎসবের পিছনে রয়েছে প্রচলিত এক কাহিনি

বাংলার ঘরে ঘরে আজ পূজিত হচ্ছেন মা মনসা, জেনে নিন এই উৎসবের পিছনে রয়েছে প্রচলিত এক কাহিনি
ছবিসূত্র Google
Advertisement

আজ প্রত্যেক বাঙালির ঘরে ঘরে পুজো করা হচ্ছে দেবী মনসার অনেক মানুষের ধারণা সাপের কামড় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমার বাঙালি ঘরে ঘরে দুধ ও কলা দিয়ে দেবী মনসার পূজা করেন সারাদিন উপবাস করে থেকে পুজোর শেষে কলা সাবু দুধ প্রভৃতি দিয়ে মা মনসার পুজো সম্পন্ন করে মহিলারা তাদের উপবাস ভাঙেনি সমাজে এই পুজো প্রথা চালু হওয়ার পেছনে রয়েছে এক ঐতিহাসিক কাহিনী।

চাঁদ সদাগর হল মনসামঙ্গল কাব্যধারার পএকটি চরিত্র তিনি ছিলেন প্রাচীন ভারতের চম্পকনগরের একজন ক্ষমতাশালী ও ধনী বনিক। বিপ্রদাস পিপলাই তার মনসামঙ্গল কাব্যে উল্লেখ করেছেন যে চাঁদ সওদাগর বানিজ্যতে নিয়ে সপ্তগ্রাম গঙ্গা যমুনা সরস্বতী নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত ত্রিবেণী হয়ে সমুদ্রের দিকে যাত্রা করতেন। চাঁদ সদাগরের এই কাহানি সঙ্গে সাপের দেবী মনসার পূজো প্রচারের কাজে কাহিনীটি জড়িত।

চাঁদ সওদাগর ছিলেন শিব ভক্ত। চাঁদের হাত থেকে মা মনসা পূজা কামনা করলে চাঁদ তাকে প্রত্যাখ্যান করত এ সময় মা মনসা ছলনার আশ্রয় নিয়ে চাঁদের পূজা আমায় করার চেষ্টা করলো। কিন্তু চাঁদ সওদাগর শিবের দোয়া দেওয়ান “মহাজ্ঞানী” মন্ত্রবলে মনসার সব ছলনা ব্যর্থ করে দেয় তিনি মা মনসা পূজা করতে নাকচ করলে দেবী মনসা ক্রোধের বশে চাঁদের পুত্রের প্রান নিয়ে বসে। পুত্রশোকে চাঁদ বাণিজ্য যাওয়া ত্যাগ করেন কিন্তু একসময় তার সব দুঃখ কষ্ট পেরিয়ে নিয়ে আবারো বাণিজ্য বের হন

নগরে ফিরে এসেছে কোনরকমে নিজের জীবনকে দার করেন। এসময় লখিন্দর নামে তার একটি পুত্র সন্তান হয় এদিকে সাহেবেনের স্ত্রী একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। যার নাম রাখা হয় বেহুলা দুজনে একসাথে বেড়ে ওঠেন বড় হওয়ার পর তাদের অভিভাবকেরা দুজনের বিবাহ নিশ্চিত করেন।

কিন্তু লখিন্দরের কুষ্ঠি তে লেখা ছিল যে বিবাহ রাত্রেই বাসর ঘরে তার মৃত্যু হবে। কিন্তু মনসা ভক্ত বেহুলা ও লখিন্দর ছিল একেবারে রাজযোটক।তাই শেষমেষ তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।
চাঁদ তার ছেলের জন্য একটি লৌহনির্মিত ঘর বানান।বানানো বানান।এত পরিমান সুরক্ষা রাখা সত্ত্বেও মনসার পাঠনো সাপের দংশনে লখিন্দরের প্রান নাশ ঘটে। সে যুগে প্রথা ছিল সাপে কামরানো মৃত ব্যাক্তিকে পোড়ানোর বদলে ভেলায় করে নদীর জলে ভাসিয়ে দেওয়া হত। বেহুলা গার পতিভক্তির সরূপ সেই ভেলায় সেও যাত্রা করেন।

কলার ভেলায় ভাসতে ভাসতে মা মনসার সহচরী নেতার ঘাটে গিয়ে পৌঁছায়। সেই ঘাটে কাপড় কাচত নেতা। বেহুলার প্রার্থনা শুনে নেতা ঠিক করেন যে তাঁকে নিয়ে যাবেন মনসার কাছে। নিজের অলৌকিক ক্ষমতাবলে তিনি বেহুলা ও মৃত লখিন্দরকে স্বর্গে উপস্থিত করেন। মনসা বেহুলাকে বলেন, “যদি তোমার শ্বশুরকে দিয়ে আমার পুজো করাতে পারো, তবে তুমি তোমার স্বামীর প্রাণ ফিরে পাবে।”

বেহুলা তাঁর শাশুড়িকে সব ঘটনা বিবৃত করেন। তিনি চাঁদ সদাগরকে গিয়ে সব কথা জানান। চাঁদের পক্ষে আর না বলা সম্ভব হয় না।

প্রতি মাসের কৃষ্ণা একাদশী তিথিতে চাঁদ সদাগর মা মনসার পুজো করতে সম্মতি জানান। কিন্তু তিনি যেহেতু ডান হাত দিয়ে শিবের উপসনা করতেন তাই তিনি বাম হাতে প্রতিমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে মনসাকে পুজো অর্পন করেন। মা মনসা তাতেই সন্তুষ্ট হন।

এর পর চাঁদ সদাগর ও তাঁর পরিবার সুখে শান্তিতে বাস করতে থাকে। চাঁদ-এর ছয় পুত্রকেও মনসা জীবন দান করেন। চাঁদ সদাগরের মতো ধনী ও প্রভাবশালী বণিক মনসার পুজো করায় মনসার পুজো বৃহত্তর জনসমাজে প্রচার পায়।

তাই আজকে বাঙালির ঘরে ঘরে দেবী মনসার পূজা করা হচ্ছে। পুজোকে ঘিরে মেতে থাকেন বাড়ির মহিলারা। তারা শ্রদ্ধার সাথে মাকে পূজা নিবেদন করে।

Advertisement