করোনা আবহে ১ বছরেরও বেশি সময় পর বিদেশ সফরে নরেন্দ্র মোদি

নিজস্ব প্রতিবেদন: বাংলার মতুয়া ভোটারদের লক্ষ্য রেখেই প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে করোনা আবহে বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।নির্বাচনের প্রাক্কালে এই সফর যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট রাজনৈতিক মহলের কাছে।প্রসঙ্গত আগামীকাল ২৭ মার্চ থেকেই পশ্চিমবঙ্গে শুরু হচ্ছে বিধানসভা ভোট গ্রহণ।তরইমধ্যে আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন এবং প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে দুদিনের বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি।শুধুমাত্র অনুষ্ঠান নয় এই সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছু বিষয়ে বৈঠক রয়েছে নরেন্দ্র মোদির।দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির পাশাপাশি বেশ কিছু বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করা হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  শনিবার থেকে শুরু প্রথম দফার ভোটগ্রহণ; এক নজরে দেখে নিন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের তালিকা

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য করোনা প্রাক্কালে প্রায় ১ বছরেরও বেশি সময় বা ৪৯৭ দিন পর দেশের বাইরে পা রাখলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।এতদিন পর্যন্ত শুধু দেশেই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে কাজ সমাধা করছিলেন তিনি।এদিন সফর শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইটারে এক বিবৃতি প্রকাশ করে বলেন,”আমি খুশি করোনা অতিমারির পর এটাই প্রথম বিদেশ সফর। বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে মিল রয়েছে ভারতের।বিগত শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা বঙ্গবন্ধু। তাঁর জীবন লক্ষাধিক মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে গিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ জানাব”।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পৌঁছে গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিমান।

আরও পড়ুনঃ হাসপাতালে ভর্তি হলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ

তবে শুধুমাত্র বাংলাদেশ দিবস উপলক্ষে এই সফর অনুষ্ঠিত করা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে এদিন মতুয়াদের মন্দিরেও পৌঁছবেন মোদি। বিভিন্ন রিপোর্টের খবর অনুযায়ী,একান্ন শক্তিপীঠের অন্যতম যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরে এদিন নরেন্দ্র মোদির পুজো দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপরেই বাংলাদেশের মতুয়া সমৃদ্ধ এলাকা ওরাকান্দি তে উপস্থিত হবেন প্রধানমন্ত্রী।সফরসূচির তথ্য অনুযায়ী সেখানে মতুয়া সমাজ এর সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ আলোচনায় বাংলার ভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হতে পারে।তবে এখনো পর্যন্ত এরফলে কতটা প্রভাবিত হবে ঠাকুরনগরের মতুয়া সমাজ তা বোঝা যায়নি। প্রথমে নাগরিকত্ব সংশোধিত আইন নিয়ে এই গোষ্ঠীর মধ্যে বিতর্ক থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আশ্বস্ততার পরে এই জটিলতা অনেকটাই কেটে গিয়েছে।ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মমতাবালা ঠাকুরও চলতি বছরে অনেকটাই ক্ষুব্ধ হয়েছেন শাসক দলের প্রতি। তাই আপাতত নির্বাচনে বেশিরভাগ মতুয়ারাই বিজেপিকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে।বাংলার বেশ কয়েকটি অঞ্চলে এই গোষ্ঠীর ভোটাররা প্রভাব ফেলতে পারেন। যার ফলে অনেকটাই পরিবর্তিত হতে পারে ঘাসফুল শিবির এবং গেরুয়া শিবিরের ভোটব্যাঙ্ক।