নতুন মার্কিন রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে নববর্ষের শুভেচ্ছা পেলো বঙ্গবাসী, আপ্লুত নেটিজেনরা

কলকাতা হান্ট ডেস্কঃ আর মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যেই বাংলার নববর্ষ শুরু হতে চলেছে। এই নতুন বছর শুরুর প্রাক্কালে হঠাৎ করেই একঝাঁক খুশির হাওয়া বয়ে গেল বঙ্গবাসীর মধ্যে।প্রথম থেকেই ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রকাশ্যে এসেছে সকলের। এমতাবস্তায় হঠাৎ করেই বাংলা সহ দেশের বেশ কিছু জাতির নতুন বর্ষ শুরুর প্রাক্কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের আগাম শুভেচ্ছা ধেয়ে এলো।হয়তো আমাদের এই প্রতিবেদনের এতোটুকু অংশ পড়ার পর অনেকেই অবাক হয়েছেন। কিন্তু সত্যি বলতে গেলে এমনটাই ঘটেছে। এদিন হঠাৎ করেই জো বাইডেনের নিজস্ব টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোষ্টের মাধ্যমে ভারতীয়দের উদ্দেশ্য করে নববর্ষের শুভকামনা জানানো হয়। ইতিমধ্যেই এই পোস্টটি নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই মার্কিন মুলুকের একজন উচ্চপদস্থ নেতৃত্বর থেকে এই ধরনের শুভকামনা পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েছেন নেটিজেনরা। যদিও এই ধরণের শুভকামনা আসা যে খুব বিশেষ অস্বাভাবিক ছিল তাও নয়।কারণ,মার্কিন রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নেওয়ার পর থেকেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের মতই, রাষ্ট্রপতি বাইডেনের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ প্রকাশ্যে এসেছিল।

আরও পড়ুনঃ করোনা আক্রান্ত হলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ

এদিন নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট শেয়ার করে বাইডেন ভারতবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন,”আমার স্ত্রী জিল এবং আমার পক্ষ থেকে দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যেসকল নাগরিকরা নববর্ষ, বৈশাখী, সংক্রান্তি পালন করছেন, তাদের সকলকে শুভেচ্ছা জানাই। শুভ বাংলা, কম্বোডিয়ান, লাও, মায়ানমারি, নেপালি, সিংহলি, তামিল, থাই এবং বিষ্ণু নববর্ষ“। উল্লেখ্য মার্কিন মুলুকেও অধিক সংখ্যক বাঙালির বসবাস রয়েছে।তাই নববর্ষের প্রাক্কালে যে এই পোস্ট একটি সুন্দর বার্তা বয়ে আনবে সকলের জন্য তা বিশেষভাবে উল্লেখ্য। এই প্রসঙ্গে আমরা নববর্ষ সম্বন্ধিত বিশেষ কিছু কথা এবং নিয়মাবলী জেনে নেব।


আর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই রাত পোহালে নতুন বছর ১৪২৮ বঙ্গাব্দ শুরু হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় পয়লা বৈশাখের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে হালখাতার বিষয়টি। এদিন ব্যবসায়ীরা পুরনো বছরের হিসেব-নিকেশ মিটিয়ে, নতুন বছরের হিসেব চালু করেন। শুরু হয় নতুন বছরের বেচাকেনা। এদিন দোকানে দোকানে লক্ষ্মী-গণেশের পুজো হয়। তার পর লেখা হয় হালখাতা। চলতি বছর পয়লা বৈশাখ পড়েছে ১৫ই এপ্রিল।

আরও পড়ুনঃআর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হতে চলেছে নববর্ষ, জেনে নিন হালখাতার ইতিহাস

আগে রীতিমত নিমন্ত্রণ পত্র ছাপিয়ে উত্‍সবের আয়োজন করতেন ব্যবসায়ীরা। এখনও অনেক জায়গাতেই দোকান পরিষ্কার করে, ফুল দিয়ে সাজিয়ে, লক্ষ্মী-গণেশের পুজো করে শুরু হয় হালখাতা। অনলাইন শপিং, মোবাইল ব্যাংকিং-এর দাপটে হালখাতা আগের মতো পালিত না হলেও এদিনও দোকানে দোকানে ক্রেতাদের জন্য মিষ্টিমুখের ব্যবস্থা থাকে। সঙ্গে উপহার হিসেবে অন্তত একটা বাংলা ক্যালেন্ডার থাকবেই। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য থেকে জানা যায়,মোগল সম্রাট আকবরের সময়কাল থেকেই পয়লা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়। আর এর সঙ্গে শুরু হয় বাংলা বছরের প্রথম দিনে দোকানপাটের হিসাব আনুষ্ঠানিক ভাবে হালনগদ করার প্রক্রিয়া। মোগল আমল থেকেই পয়লা বৈশাখ অনুষ্ঠান করা হত। অপরদিকে তখন হালখাতা আসলে রাজস্ব আদায়ের অপর একটি নাম ছিল।