২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংক্রমণ বৃদ্ধি পেল রাজ্যে, মৃত্যু হলো ৫৯ জনের

collected from Anandabazar pratika

কলকাতা হান্ট ডেস্কঃ  ভারতের প্রতিটি অংশে যে হারে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ লাগামছাড়া রূপ ধারণ করেছে তাতে খুব শীঘ্রই অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় পৌঁছে যাবে আমাদের দেশ তা স্পষ্ট। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় অক্সিজেন সিলিন্ডারের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। শুধুমাত্র তাই নয় বর্তমানে ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের ওপর ভ্যাকসিন একেবারেই কার্যকর নয়। কারণ বিদেশী প্রজাতির যেসব ভাইরাসের আগমন ভারতে ঘটেছে সেগুলোর উপর ভ্যাকসিন এর কার্যকারিতা প্রায় নেই বললেই চলে। যার ফলস্বরুপ অতিরিক্ত মাত্রায় সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে।দেশের মধ্যে এই মুহূর্তে আক্রান্তের নিরিখে সর্ব শীর্ষস্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র রাজ্য। মহারাষ্ট্র ছাড়াও ছত্রিশগড়, দিল্লি, কেরল, গুজরাট, তামিলনাড়ু, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ প্রভৃতি রাজ্যে উত্তরোত্তর বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।আক্রান্তের সংখ্যার পাশাপাশি মৃত্যুসংখ্যা এতটাই বৃদ্ধি পেয়ে গিয়েছে যে বেশ কয়েক রাজ্যে তা সামলানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার দেশে করোনাভাইরাসে দৈনিক আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লক্ষ্য ৪৬ হাজার জনেরও অধিক মানুষ এবং মৃত্যু ঘটেছে ২ হাজার ৬০০ জনের। বৃহস্পতিবার এই আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩ লক্ষ্য ৩২ হাজার ৭৩০ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২৬৫ জন।

আরও পড়ুনঃ আজকের রাশিফল শনিবার ২৪ এপ্রিল ২০২১, কোন রাশির ভাগ্যে কি রয়েছে? জানাচ্ছেন আমাদের জ্যোতিষীরা

বিশেষজ্ঞদের দাবি অনুযায়ী,এপ্রিল মাসের শেষ দিকে এই সংক্রমনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এবং যেহেতু এখন ভ্যাকসিন বিশেষ কার্যকরী হচ্ছে না তার ফলে মৃত্যু সংখ্যাও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বৈজ্ঞানিকরা। এরই মধ্যে আবার পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন চলার দরুন মানুষের জীবনযাত্রা আরও প্রভাবিত হচ্ছে।যদিও এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে সঠিক কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।বড় বড় জনসভা গুলি বন্ধ হয়ে গেলেও পাড়ায় পাড়ায় রীতিমত ভিড় করে প্রচার চালানো হচ্ছে। দিন কয়েক আগে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সম্পূর্ণ ভোটকে একদফায় করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু শাসকদলের সেই কথায় কর্ণপাত করেনি কমিশন।এখনো পর্যন্ত রাজ্যের সপ্তম এবং অষ্টম অর্থাৎ শেষ দুই দফার ভোট বাকি রয়েছে।যার ফলস্বরুপ অত্যন্ত চিন্তার ছাপ পড়েছে চিকিৎসকদের কপালে। কারণ এই দুই দফার ভোট শেষ হতে না হতেই রাজ্যের অবস্থা আরও সঙ্কটজনক জায়গায় চলে যাবে তা তারা অত্যন্ত ভালো করেই জানেন। আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক গতকাল রাজ্যের দৈনিক আক্রান্তের পরিসংখ্যান।

আরও পড়ুনঃ মা তারার পুজো করলে সবক্ষেত্রে জীবন সুখ শান্তিতে ভরে ওঠে

গতকাল শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৮৭৬ জন।এই পরিসংখ্যান যোগ করার পর মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ লক্ষ্য ১৩ হাজার ৭৮০ জন। শুক্রবার রাজ্যে মৃত্যু ঘটেছে ৫৯ জনের, এই সংখ্যা যোগ করে রাজ্যে মোট মৃত্যু হল ১০ হাজার ৮২৫ জনের।গতকাল রাজ্যে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা অত্যধিক হারে বাড়লেও টিকাকরণের সংখ্যা মারাত্মক রূপে কমে গিয়েছে। শুক্রবার রাজ্যে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১ লক্ষ্য ৬২ হাজার ৬৫৫ টি। যার ফলে সংক্রমণ হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪.৪১ শতাংশ। পাশাপাশি এদিন তৃতীয় দফায় রাজ্যে টিকা নিয়েছেন ৫২ হাজার ৬৪৬ জন মানুষ।প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি জানুয়ারি মাসের টিকাকরণের প্রথম দফায় সমস্ত চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ করোনা আক্রান্ত হলেন জোট প্রার্থী শতরূপ ঘোষ, সতর্ক থাকার বার্তা দিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়

এরপর মার্চ মাসে দ্বিতীয় দফায় ষাটোর্ধ্ব সমস্ত বয়স্ক ব্যক্তি এবং ৪৫ বছরের উপর যাদের শারীরিক সমস্যা রয়েছে তাদের নথিপত্র দেখার পরেই টিকা দেওয়া হয়েছিল। সংক্রমনের বাড়বাড়ন্ত পরিস্থিতি দেখে এপ্রিল মাসে ৪৫ এর ঊর্ধ্বে সকল ব্যক্তিদের নথিপত্র ছাড়াই এবং মে মাসে ১৮ বছরের উপরের সকল ব্যক্তিদের টিকা প্রদান করা হবে। গতকাল অন্যান্য দিনের মতোই আক্রান্তের নিরিখে সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে রাজধানী কলকাতা।কলকাতায় এদিন আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৮৩০ জন। এরপর যথাক্রমে উত্তর ২৪ পরগনায় ২৫৮৫,দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৭৯০, হাওড়ায় ৭৪৬,পশ্চিম বর্ধমানে ৬৪৩,হুগলিতে ৫৯৪ এবং পূর্ব মেদিনীপুরে৪১৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন।