সব্যসাচীর সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেদনের মাধ্যমে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শংকর ঘোষালের অ্যাকাউন্টে পৌঁছলো ৪০ হাজার টাকা

সব্যসাচীর সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেদনের মাধ্যমে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শংকর ঘোষালের অ্যাকাউন্টে পৌঁছলো ৪০ হাজার টাকা

কলকাতা হান্ট ডেস্কঃ সম্প্রতি গতকাল হঠাৎ করে এই জনপ্রিয় পার্শ্বঅভিনেতা শংকর ঘোষালকে নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন অভিনেতা সব্যসাচী চৌধুরী।সেই পোস্টে বামাক্ষ্যাপা খ্যাত অভিনেতা রীতিমতো সকলের কাছে তাকে সাহায্য করার আবেদন রেখেছিলেন। জানা গিয়েছিল একসময় উত্তম কুমারের মতো মানুষের সাথে কাজ করা অভিনেতা বর্তমানে রাস্তায় ভিক্ষা করছেন। শুধুমাত্র তাই নয় জরাজীর্ণ বাড়িতে বসবাস করে কোন রকমে প্রতিভা নিয়েও কিছু করতে পারেননি তিনি।গতকাল শংকর বাবুর ব্যাঙ্ক ডিটেলস শেয়ার করার পর থেকেই ধীরে ধীরে তার একাউন্টে টাকা আসতে থাকে।সব্যসাচী জানিয়েছেন, তাঁর সোশ্যাল পোস্টের ১২ ঘণ্টার মধ্যে শঙ্করবাবুর অ্যাকাউন্টে ৪০ হাজার টাকা এসেছে। বাড়িতে পৌঁছেছে এক মাসের খাবার। ওষুধের ব্যবস্থাও হয়ে যাবে। সব থেকে বড় কথা তাঁর কাজের ব্যবস্থা হয়েছে।

এদিন সকালে নিজের অপর আরেক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সব্যসাচী লেখেন,”১২ ঘন্টা আগে শঙ্কর ঘোষাল কে নিয়ে পোস্টটি করেছিলাম। এই ১২ ঘন্টায় শঙ্করদার একাউন্ট এ প্রায় ৪০ হাজার টাকা ঢুকেছে, তার বাড়িতে আগামী এক মাসের খাবার ঢুকেছে। ওষুধপত্রও চলে আসবে আজকালের মধ্যে। সব চেয়ে বড় কথা, একটা কাজেরও ব্যবস্থা হয়েছে“।আমায় একটু লজ্জা করেই বললেন ‘সেই কত বছর আগে থিয়েটার এ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলাম, ল্যান্ড লাইনে সেদিন প্রচুর ফোন এসেছিলো। আর এতো বছর পর এই আজ এলো। যাদের কাছে আমি হাত জোর করে কাজ চেয়েছি একসময়, তারাও আজ ফোন করেছেন আমায়’। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গতকাল সব্যসাচীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে জানা গিয়েছিল, শংকর ঘোষাল নামে এই ব্যক্তির বয়স ৭০ বছর। উত্তম কুমার, সলিল চৌধুরী প্রভৃতি বরণীয় ব্যক্তিবর্গের সাথে কাজ করেছেন তিনি। একসময় থিয়েটারে অত্যধিক জনপ্রিয় ছিল তার নাম। শেষ কাজ করেছেন সৌদামিনীর সংসার এ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আর কোনো রকম কাজ পাননি তিনি।ফলস্বরূপ তার অর্থকষ্ট এতটাই খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে যে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে হাত পাততে হচ্ছে তাকে।

শুধুমাত্র সব্যসাচী নয় এই কাজে এগিয়ে এসেছেন তার বান্ধবী ঐন্দ্রিলা শর্মাও। কিছুদিন আগেই ক্যান্সার থেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন ঐন্দ্রিলা। মারণ রোগের সাথে লড়াই করার পাশাপাশি মানুষের পাশে থাকার কথাও ভোলেননি অভিনেত্রী।তাই একটু সুস্থ্য হতেই আবারও বিভিন্ন সামাজিক কাজে লেগে পড়েছেন।উল্লেখ্য গত ফেব্রুয়ারি মাসে হঠাৎ করেই ঐন্দ্রিলার ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার কথা জানা যায়। দিল্লির এপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা হয়েছিল তার। পরপর কেমো দেওয়ার ফলে তার মাথার সব চুল প্রায় উঠে যায়। কিন্তু তার পরেও একফোঁটা আত্মবিশ্বাস ভাঙেনি অভিনেত্রীর। মাথায় উইগ পড়েই শুটিং সেটে ফিরেছিলেন তিনি।পরবর্তী সময়ে মেয়েকে সাহস দেওয়ার জন্য ঐন্দ্রিলার বাবাকেও ন্যাড়া হয়ে সকলের সামনে আসতে দেখা যায়। এই ঘটনায় সম্পূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া অভিভূত হয়ে পড়েছিল।