শেষমেষ লকডাউন জারি করা হলো মহারাষ্ট্রে, সংক্রমণ বাড়লে আরো কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানালো সরকার।

নিজস্ব প্রতিবেদন: করোনা পরিস্থিতির বাড়বাড়ন্তের ফলে শেষ পর্যন্ত বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল মহারাষ্ট্র সরকার। বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই মহারাষ্ট্র সহ ভারতবর্ষে ক্রমাগত আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিল।দেশের মধ্যে একমাত্র মহারাষ্ট্রের সংক্রমণ হার এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল যেখান থেকে আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না। প্রায় প্রতিদিনই ৫০ হাজার সংক্রমণের পাশাপাশি অধিক সংখ্যক মৃত্যুহার প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে।এমতাবস্থায় আর কোন উপায় না দেখে শেষমেষ লকডাউন এর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো সরকারের তরফে। তবে স্বস্তির খবর এই যে সম্পূর্ণরূপে লকডাউন জারি করা হয়নি এই রাজ্যে।শুধুমাত্র সপ্তাহের শেষ দিন অর্থাৎ শনিবার এবং রবিবার সম্পূর্ণ রাজ্য জুড়ে লকডাউন থাকবে।

আরও পড়ুনঃ ভোটের ফলের পর কন্ডোমের দোকান দেবেন সায়নী, বিস্ফোরক মন্ত্যব্য অগ্নিমিত্রার !

লকডাউন ছাড়াও প্রতিদিন রাজ্যেই ১১ ঘণ্টার নাইট কার্ফু কার্যকর হতে চলেছে।প্রসঙ্গত এই মুহূর্তে দেশের যা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তাতে সম্পূর্ণরূপে লকডাউন করা সম্ভব নয়। কারণ গত বছর লকডাউন এর ফলে এখনো পর্যন্ত আর্থিক সঙ্কটের সমস্যা রয়েছে দেশজুড়ে। সুতরাং ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লেও এখন আর লকডাউন করা অসম্ভব। প্রসঙ্গত গতকাল রাজ্যের উচ্চস্তরের বৈঠকের পর মন্ত্রী নবাব মালিক এই লকডাউন এর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন,’প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার রাত আটটা থেকে রাজ্যজুড়ে সম্পূর্ণ লকডাউন শুরু হবে। এই লকডাউন চলবে পরবর্তী সোমবার সকাল সাতটা পর্যন্ত’।

তবে মন্ত্রী সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই লকডাউন এর সময় সবজি বাজার, ফল ,দুধ এবং সমস্ত জরুরি পরিষেবায় ছাড় দেওয়া হবে। এই প্রসঙ্গে উদ্ভব সরকারের মন্ত্রী জানিয়েছেন,’রাত আটটা থেকে পরদিন সকাল সাতটা পর্যন্ত নাইট কার্ফু চলবে। সেইসময় কড়া বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। জরুরী পরিষেবা ছাড়া আর কোন ক্ষেত্রে ছাড় মিলবে না। সমস্ত সংস্থার কর্মীদের বাড়িতে থেকেই কাজ করতে হবে। হোম সার্ভিস পরিষেবা চালু থাকবে। ধর্মীয় স্থান গুলি লকডাউন এর সময় সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। দৈনন্দিন পুজোর জন্য সেগুলি খোলা হলেও তাতে কোনরকম ভাবেই ভিড় জমানো যাবে না।মাল্টিপ্লেক্স, প্রেক্ষাগৃহ, শপিং মল বন্ধ রাখতে হবে’।পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের সংখ্যালঘু বিষয়কমন্ত্রী নবাব মালিক বলেছেন, “বাজার, কলকারখানা, গণপরিবহণ চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে কড়া বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। যা রবিবার সন্ধ্যার মধ্যে সম্ভবত ঘোষণা করবে সরকার। বাস, ট্রেন, ট্যাক্সি এবং অটো ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পারবে”।

আরও পড়ুনঃ সোমবারে ভাগ্য পালটাবে এই তিন রাশির, জেনে নিন আজকের রাশিফল ৫ এপ্রিল সোমবার ২০২১

প্রসঙ্গত মহারাষ্ট্র সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরই দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্য সরকার লকডাউন নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে শুরু করে দিয়েছেন ইতিমধ্যেই। তার কারণ এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা করা যেতে পারে। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও সংকটের দিকে চলে গেলে সেক্ষেত্রে হয়তো আর মানুষকে রক্ষা করা সম্ভবপর হবে না।তাই যত দ্রুত সম্ভব ভ্যাক্সিনেশন কর্মসূচি বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বেশকিছু রাজ্য যেমন পাঞ্জাব, হরিয়ানা ,রাজস্থান, তামিলনাড়ু,দিল্লি, গুজরাট, কেরল, তেলেঙ্গানা, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রভৃতি রাজ্যগুলিতে উত্তরোত্তর বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। শনিবার সম্পূর্ণ দেশে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৯৩ হাজার ২৪৯ জন এবং মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৫১৩ জনে।

শুক্রবার এর ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান ছিল যথাক্রমে ৮৯ হাজার ২৮৯ জন এবং ৭১৪ জন। এই রাজ্যেও ক্রমাগত বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। গতকাল রবিবার পশ্চিমবঙ্গে ভাইরাসের কবলে পড়েছেন ১ হাজার ৯৫৭ জন মানুষ। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে এক ধাক্কায় রেকর্ড ভেঙে সংক্রমণ হার পৌঁছে গিয়েছে ৭.৩৬ শতাংশতে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বর্তমানে সারা দেশজুড়ে চলছে তৃতীয় দফার ভ্যাক্সিনেশন প্রক্রিয়া।এর আগে গত জানুয়ারি মাসে প্রথম দফায় চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় ষাটোর্ধ্ব সমস্ত বয়স্ক ব্যক্তি এবং ৪৫ বছরের ওপর তাদের শারীরিক সমস্যা রয়েছে একমাত্র তাদেরকেই টিকা দেওয়া হচ্ছিল।তবে সেই ক্ষেত্রে টিকাকরণ কেন্দ্রে পরিচয় পত্রের পাশাপাশি শারীরিক সমস্যার নথি দেখানো আবশ্যক ছিল। তবে তৃতীয় দফায় ৪৫ বছরের উপর সকল ব্যক্তিদের কোন রকম শারীরিক সমস্যার নথিপত্র ছাড়াই টিকা প্রদান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ তৃতীয় দফার ভোটের প্রাক্কালে আজ রাজ্যে আসতে চলেছে মরশুমের প্রথম কালবৈশাখী, কি জানালো হাওয়া অফিস