কোন সিনেমার গল্পের থেকে কম নয় সন্ধ্যা রায়ের জীবন কাহিনী; রইল বিশেষ প্রতিবেদন!

নিজস্ব প্রতিবেদন: বলিউড হোক কিংবা টলিউড সব জায়গাতেই প্রতিটি যুগে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে নিত্যনতুন তারকাদের আগমন ঘটে থাকে। এর মধ্যে অনেক মানুষ এমন আছেন যারা দীর্ঘস্থায়ীভাবে অনুরাগীদের মন জয় করে নেন।বাংলা চলচ্চিত্র জগতেও ক্রমাগত একের পর এক তারকাদের আগমন ঘটেছে। তবে এমন কিছু তারকা রয়েছেন যাদের জায়গা কোনদিনই অন্য কেউ নিতে পারেননি।তাদের অভিনয় দক্ষতা থেকে শুরু করে অভিনয়ের প্রতি একাগ্রতা সবকিছুই মানুষের মনে এখনো পর্যন্ত গেঁথে রয়ে গিয়েছে। যুগ বদলে যাবার পরেও কোনদিন এই সব শিল্পীদের অভিনয় নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন আসেনি। এর মধ্যেই একজন তারকা হলেন বিখ্যাত অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়। নিজের জীবনের দীর্ঘ কয়েক বছর চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করার পাশাপাশি সব চরিত্রেই সমানভাবে প্রশংসা অর্জন করেছেন সন্ধ্যা।এমনকি তার অভিনয় দক্ষতা মানুষের মনে এতটাই জায়গা বিস্তার করেছিল যে তিনি যে চলচ্চিত্রেই অভিনয় করতেন না কেন তা সফল হয়ে যেত। কিন্তু সফলতার এতটা সিঁড়ি অতিক্রম করার পরেও ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত কঠোর জীবনসংগ্রাম চালাতে হয়েছে এই অভিনেত্রীকে। তিনি জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেও এই জায়গাটি তে নিজেকে প্রতিষ্টিত করা তার পক্ষে সহজ ছিল না।

ব্যক্তিগত জীবনে সন্ধ্যা রায়ের মতন মানুষ খুব কমই আছেন। যেভাবে তিনি জীবনের প্রতিটা পথে লড়াই করে এই জায়গায় পৌঁছে ছিলেন তা হয়তো অনেক মানুষেরই অজানা। আজকের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা সেই বিষয় গুলি সম্বন্ধে বিস্তারিত জেনে নেব। হয়তো এই প্রতিবেদনটি পড়ার পর আপনার মনে হতে পারে অনেকটা সিনেমার গল্পের মতোই কেটেছে সন্ধ্যা রায়ের জীবন। মাত্র 7 বছর বয়সে নিজের বাবাকে হারিয়ে ছিলেন এই অভিনেত্রী। এরপর হঠাৎ করেই নয় বছর বয়সে তাঁর মা-ও পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। শেষ পর্যন্ত মামা বাড়িতে মানুষ হতে বাধ্য হন তিনি। কিছুদিন স্কুল জীবনের শিক্ষা লাভ করার পর বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসেন তিনি। এরপর হঠাৎ করেই অভিনয় জগতে আগ্রহ প্রকাশ পেতে থাকে তার।টলিউড জগতে সর্বপ্রথম মামলার ফল নামক একটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন সন্ধ্যা। প্রথম ছবিতেই তার অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। এরপর আর কোনদিন পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

প্রথম ছবিতে সাফল্য লাভ করার পরপর একাধিক ছবিতে অভিনয় করতে থাকেন তিনি। এবং খুব অদ্ভুত ভাবে তার প্রতিটি ছবি সফল হতে থাকে। এই সময়ে পরিচালক তরুণ মজুমদারের সাথে কাজ করেন অভিনেত্রী।তরুণ মজুমদারের সাথে বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করার পর হঠাৎ করেই তার সাথে প্রেম সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সন্ধ্যা। এরপর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও তাদের এই সম্পর্ক খুব বেশিদিন টিকে থাকেনি। বিবাহ বিচ্ছেদের পরও বেশ কিছুদিন অভিনয় চালিয়ে গেছেন সন্ধ্যা রায়।কিন্তু পরবর্তীতে শেষ পর্যন্ত অভিনয় জগৎকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রেখে রাজনীতিকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। 2014 সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সন্ধ্যা। অতএব এতদুর পর্যন্ত পড়ে সুস্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে সন্ধ্যা রায়ের এই জীবন কাহিনী কোন রূপকথার গল্পের চেয়ে কম নয়। খুব কম মানুষই এত স্বল্প সময়ের মধ্যে জীবনে এত সাফল্য লাভ করতে পারেন। সে মানুষদের মধ্যে সন্ধ্যা রায় যে অন্যতম একজন তাতে কোন সন্দেহ নেই।