সিঁথিতে সিঁদুর লাগিয়ে বিকৃত করা হলো মুখ্যমন্ত্রীর ছবি, বাড়ছে রাজনৈতিক তরজা

নিজস্ব প্রতিবেদন: নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে একে অপরের প্রতি কোনো রকমের কটাক্ষ বা আক্রমণ নতুন নয়।নানান রকম ভাবে একে অপরের ভাবমূর্তি নষ্ট করার মাধ্যমেই রাজনৈতিক দলগুলি জনসংযোগের কাজে মেতে ওঠে। কিন্তু সম্প্রতি যে ভাবে চলতি নির্বাচনে কুরুচিকর শব্দ এবং অন্যান্য ভাষা প্রয়োগ করা হচ্ছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক।দিন কয়েক আগেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা দেখানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই সময়ে দীলিপবাবুর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন নারীবাদীরা।কিভাবে এত বড় একটি সর্বভারতীয় দলের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও একজন মহিলা সম্বন্ধে এহেন মন্তব্য করতে পারেন তিনি তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল।যদিও পরবর্তীতে আবারও সাক্ষাত্কার দিতে গিয়ে নিজের একই মন্তব্যে অনড় থাকতে দেখা যায় দিলীপ ঘোষকে।এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি বিকৃত করে প্রচার করার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের নিত্যানন্দপুর গ্রামে।

আরও পড়ুনঃ ৪৫ বছরের উর্ধ্বে সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের দেওয়া হবে করোনা ভ্যাকসিন

তৃতীয় দফার ভোট শুরু হওয়ার আগে এখানে বেশ কিছু জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচার এর জন্য পোস্টার এবং ব্যানার লাগানো হচ্ছিল।সেইসব ব্যানারে তুলে ধরা হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সহ তার কর্মকাল এর কাজের খতিয়ান। এমতাবস্থায় হঠাৎ করেই একটি পোস্টারে চোখে পড়ে সিঁথিতে সিঁদুর ও কপালে লাল টিপ পরিয়েই বিকৃত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি। এই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি অশালীন কাজের মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোকে অপমান করার জন্য এই কাজ করেছে গেরুয়া শিবির। এমনকি এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।যদিও অপরদিকে বিজেপি নেতাদের দাবি দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরেই কেউ ঘটিয়েছে।বর্ধমান সদর জেলা বিজেপির সভাপতি শ্যামল রায় এই ঘটনার প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেছেন,”আমরা এই কাজ করলে লাল নয় গেরুয়া রং লাগাতাম”।অর্থাৎ অনেকটা পরোক্ষভাবেই বিজেপি দাবি করেছে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বামপন্থী শিবির।তবে চলতি বছরে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে প্রধান লড়াই বিজেপির হওয়ার জন্য একথা মানতে নারাজ তৃণমূলীরা।

আরও পড়ুনঃ গোঘাটে বিজেপির এজেন্টকে বাধা ও মারধরের অভিযোগ

সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই বাদানুবাদ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে কিভাবে একজন মহিলার ছবিকে এভাবে বিকৃত করে প্রচার চালাতে পারে বিরোধী দল!ঘটনার সত্যতা এখনো পর্যন্ত যাচাই করা না গেলেও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে শাসক দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি তৃণমূল সুপ্রিমোকে অপমান করাই এই কাজের মূল লক্ষ্য। প্রসঙ্গত রবিবার তৃণমূলের নির্বাচনী কার্যালয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কে অপমান করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন শাসক দলের তারকা প্রার্থী জুন মালিয়া।এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বারংবার মমতাকে অনেকটা কটাক্ষের সুরে ‘দিদি’ সম্বোধন করাকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন জুন। এই দিদি ডাক যে কতটা অসম্মানজনক এককথায় উদাহরণ দিয়ে রীতিমত বুঝিয়ে দেন জুন মালিয়া। যদিও পরবর্তীতে তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি এই দিদি ডাকের মধ্যে এমন কি আছে যাতে অপমানিত বোধ করলেন শাসকদলের নেতারা।আসলে হেরে যাওয়ার কথা বুঝতে পেরেই নিজেদের জমি বাঁচানোর জন্য এই ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য করছে তৃণমূল কংগ্রেস।