বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্যপালকে ফোন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্যপালকে ফোন করলেন প্রধানমন্ত্রী

কলকাতা হান্ট ডেস্কঃ বাংলায় দিন দুয়েক আগেই ঘোষণা হয়েছে নির্বাচনের ফলাফল। অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই চলতি বছরের নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফের তৃতীয়বার ক্ষমতা লাভ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।এমতাবস্থায় তারপর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা সামনে আসছে।প্রসঙ্গত জায়গায় জায়গায় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ফসল থেকে শুরু করে দোকান, ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।কিন্তু তার পরেও এখনো পর্যন্ত তৃণমূল নেতাদের কোনো রকম প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়নি। শেষপর্যন্ত এই ঘটনায় এগিয়ে এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা নিয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে ফোন করলেন মোদি। এদিন রাজ্যপাল নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে একটি টুইটের মাধ্যমে জানিয়েছেন,”রাজ্যের ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আমিও প্রধানমন্ত্রীকে এই বিষয়ে অবগত করেছি। এখন যারা দায়িত্বে আছেন তাঁদের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়রাও প্রশ্ন তুলছে যে, বাংলাতেই কেন ভোট পরবর্তী হিংসা হবে? এভাবে কেন বারবার গণতন্ত্রকে হেনস্থা করা হবে?”

উল্লেখ্য নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর কালীঘাট থেকে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দলের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন।কিন্তু তারপরেও দলনেত্রীর নির্দেশ অমান্য করে বিভিন্ন জায়গায় হিংসার ঘটনা ঘটেই চলেছে।পূর্ব বর্ধমানের কালনা বিধানসভা কেন্দ্রের ৫০ থেকে ৬০ ঘর বিজেপির সমর্থক পরিবার এলাকা ছেড়ে পলায়ন করে নদীয়া জেলার গয়েশপুরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এই ধরনের ঘটনা বাংলা কেন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে কখনো ঘটেনি। যার ফলস্বরুপ প্রতিবাদে সামিল হয়েছে বিজেপি। শুধুমাত্র ভারতীয় জনতা পার্টির নেতারাই নয়,অন্যান্য অনেক সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যক্তিরাই হিংসার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এরইমধ্যে গতকাল তৃতীয়বার শপথ গ্রহণ করতে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।করোনা পরিস্থিতিতে খুব সাদামাটাভাবেই এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর এই হিংসা কোন পর্যায়ে যায় তাই দেখার বিষয়! ইতিমধ্যেই এই হিংসা নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। গতকাল এক সাংবাদিক সম্মেলনে দীর্ঘ বক্তব্যের মাধ্যমে বিজেপি কর্মীদের উপর আক্রমণের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন দিলীপ বাবু। তিনি বলেন,”গতকাল নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে থেকেই রাজ্যে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়ে যায়।যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, তাঁদের উৎসাহে এবং পার্টি কর্মীদের উদ্যোগে বিজেপি পার্টির কার্যালয়, কর্মী, নেতা ও তাঁদের বাড়ি সব জায়গায় হামলা শুরু হয়েছে। পুলিশে অভিযোগ করলে, তাঁদের বক্তব্য আমরা কী করব?

অনেকটা কঠিন স্বরে এদিন দিলীপ ঘোষকে বলতে শোনা যায়,”রাজ্যে হিংসা নতুন কোনও ঘটনা নয়। হার-জিতের পর সামান্য উত্তেজনা থাকেই। তবে, ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি, তার মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাজার হাজার বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। মানুষ ঘরছাড়া, দোকানপাট লুঠ হয়ে যাচ্ছে। সেইসব ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। প্রত্যেক বিধানসভা কেন্দ্র থেকে হিংসার খবর আসছে। জিতে অনেকেই তাঁদের আনন্দ ধরে রাখতে পারছেন না। উত্তর-দক্ষিণ সব জায়গায় এরকম ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই অরাজকতা যদি এত বড় সমর্থন পাওয়ার পর চলতে থাকে, তাহলে দায়িত্ব কে নেবে?এখনও পর্যন্ত ৬ জন মারা গিয়েছেন। জগদ্দলে শোভারানী মণ্ডল মারা গিয়েছেন। তাঁর ছেলে ছিল বিজেপির বুথ কর্মী। তাঁর উপরে অত্যাচার হচ্ছিল। তাকে বাঁচাতে এসে তিনি মার খান। তাতেই মারা যান। রানাঘাটে উত্তম ঘোষ নামে এক বিজেপি সমর্থক মারা গিয়েছেন। বেলেঘাটায় অভিজিৎ সরকারকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। উনি আমাদের পার্টির কর্মী ছিলেন। সোনারপুরে হারান অধিকারী নামে এক বিজেপি কর্মীকে খুন করা হয়েছে। শীতলকুচিতে মানিক মৈত্র নামে ১৯ বছরের এক যুবকের মাথায় গুলি করা হয়েছে। আইএসএফের এক কর্মীকে বোমা মেরে খুন করা হয়েছে।ফল প্রকাশ ২৪ ঘণ্টাও হয়নি, তার মধ্যে যদি এই অবস্থা হয় তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। নির্বাচন পরবর্তী হিংসা এখন আয়ত্বের বাইরে চলে গিয়েছে।এখন করোনা সংক্রমণ নিয়ে মানুষ ভয়, ভীত। এই আবহে এই রাজনৈতিক সন্ত্রাস অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক“।