ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল মন্দির – মসজিদ বিতর্ক, কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ দিয়েই তৈরি সংলগ্ন মসজিদ? খোঁজ করার নির্দেশ আদালতের

নিজস্ব প্রতিবেদন:- প্রথম থেকেই ভারতে মন্দির -মসজিদ বিতর্ক বিশেষভাবে লক্ষণীয়। অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে বিগত প্রায় কয়েক বছর ধরে বিতর্ক চলতে দেখা গিয়েছিল। যদিও মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মন্দিরের তরফে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিম কোর্ট। এর পরেই রাম মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়।বর্তমানে চাঁদা সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রায় অনেক কাজ সমাপ্ত হয়ে গিয়েছে অযোধ্যায়। সম্প্রতি আবারো দেশের এক মন্দির এবং মসজিদ নিয়ে বিতর্ক শুরু হলো। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, কাশী বিশ্বনাথ মন্দির এর ধ্বংসাবশেষ দিয়েই তৈরি করা হয়েছিল সংলগ্ন জ্ঞানবাপী মসজিদ। অনেকদিন আগে থেকেই এই বিষয়ে জল্পনা চলতে দেখা গিয়েছিল। এমনকি গত বছর ডিসেম্বর মাসে বিজয় শঙ্কর রাস্তোগি নামে এক আইনজীবী বারাণসীর এক আদালতে আবেদন করেন, জ্ঞাণব্যাপী মসজিদের গোটা চত্বর সার্ভে করে দেখুক এএসআই অর্থাৎ আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। কারণ উপযুক্ত তদন্তের পরই জানা যাবে সত্য ঘটনা। কিন্তু তখনও পর্যন্ত এই প্রসঙ্গে কোনরকম আগ্রহ দেখায়নি আদালত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এদিন বৃহস্পতিবার ওই মন্দির এবং মসজিদের সংলগ্ন এলাকা খোড়াখুড়ির নির্দেশ দিল বারাণসীর এক আদালত। খুব শীঘ্রই এই ঐতিহাসিক খননকার্য শুরু হতে চলেছে। সম্পূর্ণ কার্যক্রম সমাপ্ত হওয়ার পরই বিস্তারিত জানা যাবে।

আরও পড়ুনঃ অভিনেত্রী মধুবনীর কোল আলো করে আসতে চলেছে প্রথম সন্তান, হবু মায়ের উদ্দেশ্যে আবেগপ্রবণ বার্তা রাজার

এই প্রসঙ্গে জানিয়ে দিই, এই মন্দির প্রথম তৈরি করেছিলেন রাজা বিক্রমাদিত্য। কিন্তু এর পরেই ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে এই মন্দির ধ্বংস করেন শেষ প্রতাপশালী মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেব। উল্লেখ্য ঔরঙ্গজেব একেবারেই হিন্দু ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা পছন্দ করতেন না।এই মন্দিরটি ছাড়াও বেশকিছু মন্দির ধ্বংস করেছিলেন তিনি।ঔরঙ্গজেবের পরবর্তী কালের মোগল সম্রাটদের মধ্যে যদিও বা কিছুটা হিন্দু ধর্মের প্রতি সহানুভূতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল।যাইহোক বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী ওরঙ্গজেব এই মন্দিরটি ধ্বংস করার পরে মন্দির এর ধ্বংসাবশেষ দিয়েই নতুন মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। তাই বিশিষ্টদের দাবি খননকার্যের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ঘটনার সত্যতা বিচার করার পর কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের জমি এবং সম্পূর্ণ অংশ মসজিদের তরফে দিয়ে দেওয়া হোক। তবে এই ঘটনার ফলে ভারতে আবারও যে ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি হতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আপাতত সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নির্ভর করছে এএসআই এর উপর।