৯৪তম জন্মবার্ষিকীতে, আজও মানুষের মনে মহানায়ক

uttam kumar birthday
ছবিঃ গুগল
Advertisement

৪০ টা বছর কেটে গেল আমাদের থেকে চির বিদায় নিয়েছে বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমার। আজ এই কিংবদন্তীর ৯৫ তম জন্মবার্ষিকী।ব তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেও মহানায়কের স্থানে একমাএ তিনিই আছেন।

তিনি সর্বকালের সেরা অভিনেতাদের একজন হিসাবে বিবেচিত, তিনি ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক আদর্শ। বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসাবে ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছিলেন তিনি মানুষের কাছে। এখনো পর্যন্ত তার ম্যানারিজম এবং বিহেভিং স্টাইল সব নায়কদের কাছে একটা অনুপ্রেরণা এবং তার সেই কালজয়ী মুখের হাসি এখনও যেন সবার কাছে প্রিয়।

uttam kumar
ছবিঃ গুগল

আরও পড়ুনঃ এবার হ্যাক হয়ে গেল স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর টুইটার হ্যান্ডেল ,করা হচ্ছে অপ্রাসঙ্গিক টুইট

তার কাছে চলচ্চিত্র জগতটা ছিল একেবারে অচেনা। কাউকেউ চিনতেন না তিনি। কিন্তু নিজের অভিনয়ের খিদে মেটাতে পা রেখেছিলেন এই জগতে। এই জগতে পা রাখার পর তিনি কিন্তু সফলতা পান নি। অনেক কঠিন রাস্তা পেরোতে হয়েছে তাকে নিজেকে তুলে ধরার জন্য। তখন কে জানতো? যে এইভাবে তিনি হয়ে উঠবেন বাংলা চলচ্চিত্রের কালজয়ী মহানায়ক।

তার প্রথম ছবি মুক্তি পেয়েছিল ‘দৃষ্টিদান’ এবং এই ছবির পরিচালক ছিলেন নীতিন বসু সেই সময় আরও একটি ছবিতে তিনি কাজ করেন ‘মায়া ডোর’ কিন্তু এই ছবি মুক্তি পায়নি এরপর ১৯৪৮ সালে অর্থাৎ স্বাধীনতার পরের বছর থেকে শুরু হয় এই ব্যক্তির দৌড়া আর কোথাও থামেননি এবং পিছন ফিরেও দেখেন নি। ১৯৫২ সালের মধ্যে মুক্তি পায় তার বেশ কিছু ছবি এবং তা মানুষের মন জয় করে নেয় খুব সহজে।

uttam kumar mahanayok
ছবিঃ গুগল

আরও পড়ুনঃ সামনের মাসেই আসতে চলেছে প্রথম করোনা ভ্যাকসিন ‘স্পুটনিক ভি’

এই সালের একটি ছবি মুক্তি পায় ‘বসু পরিবার’। এই ছবিটিতে প্রকাশ পেয়েছিল তার অসাধারণ অভিনয়ের দক্ষতা। এখাম থেকেই ক্রমশ বাড়তে থাকে তার ভক্তের সংখ্যা। এরপর তিনি সুচিত্রা সেনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন এবং আমাদের উপহার দেন প্রচুর কালজয়ী সিনেমা।

১৯৬৭ সালে ভারত সরকার সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এবং সেই সালেই উত্তম কুমার ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ এবং ‘চিরিয়াখানা’ ছবিদুটির জন্য সর্বপ্রথম সেরা অভিনেতা পুরস্কারটি পান। বিভিন্ন পরীক্ষামূলক এবং জটিল চরিত্র সহ 250 টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করে গেছেন তিনি। যার মধ্যে “নায়ক”, “বিচারক”, “জাতুগ্রহ”, “চিরিয়াখানা”, “খোকাবাবুর প্রজ্ঞাবার্টন”, “চৌরঙ্গী”, “একনে পিঞ্জার”, “থানা থেকে আসচি” ইত্যাদি।

mahanayok uttam kumar
ছবিঃ গুগল

আরও পড়ুনঃ সাতটি জিনিস যা আপনার সংসারকে সমস্ত বিপদ থেকে মুক্ত রাখবে

তিনি তাঁর অতুলনীয় অভিনয়ের জন্য ৮ বার বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাওয়ার্ড ছাড়াও তিনি সারা জীবন অনেক পুরষ্কার ও প্রশংসা পেয়েছিলেন। বাংলা ছবিতে তাঁর অবদানের জন্য পেয়েছেন ভারতীয় জাতীয় পুরষ্কার পদ্মশ্রী। তিনি “সপ্তপদী” ছবির প্রযোজনা করেছিলেন যা বাণিজ্যিকভাবে হিট হয়েছিল এবং উত্তম কুমারকে সাথে নিয়ে সুচিত্রা সেনের সাথে বাংলা চলচ্চিত্রের রোম্যান্টিক আইকনকে চিরতরে অনুমোদিত করেছিলেন।

ওয়ার্কাহলিক এই মানুষটি ২৪ শে জুলাই ১৯৮০ সালে বেলে ভ্যু ক্লিনিকে বাংলার অন্যতম সেরা কৌতুক চলচ্চিত্র “ওগো বোধু সুন্দরী” চিত্রগ্রহণের সময় মারা গিয়েছিলেন। কলকাতা মেট্রোর টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনটির নামকরণ করা হয়েছিল “মহানায়ক উত্তম কুমার”। সত্যজিৎ রায় তাঁর মৃত্যুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই বলেছিলেন যে “এটি বাংলা চলচ্চিত্রের শিল্পের এক শীর্ষস্থানীয় আলোর মৃত্যু … সেখানে নেই – তাঁর মতো আর কোনও নায়ক থাকবেন না।”

Advertisement