সুজাতা মন্ডল খাঁ-র ওপর হামলার কী প্রতিক্রিয়া দিলেন সৌমিত্র খাঁ

নিজস্ব প্রতিবেদন: নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট বেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও তৃতীয় দফা থেকে বেশ অশান্তি শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে। আজ সকাল থেকেই কোথাও খবর আসছে ইভিএম হ্যাকের আবার কোথাও বা সোজাসুজি প্রার্থীদের মারধরের। তবে আজ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।সবথেকে বেশি উত্তেজনা ছড়িয়েছে উলুবেরিয়া বিধানসভা আসন টিতে।এদিন সকালে এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট চালান করে দেওয়ার অভিযোগে অপসারণ করা হয় সেক্টর অফিসারকে। পাশাপাশি উলুবেড়িয়া উত্তর আসনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের বচসা শুরু হলে বাহিনীদের হুমকি দেওয়া হয়। অপরদিকে বারুইপুর আসনে স্থানীয় বিজেপি প্রার্থী চন্দন মন্ডল এর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে।খানাকুল বিধানসভা আসনের তৃণমূল প্রার্থী মুন্সি নাজিবুল করিমকে আচমকাই কিছু বিজেপি সমর্থকরা মারধর করতে শুরু করেন। রীতিমতো তাকে চ্যালা কাঠ দিয়ে আঘাত করা হয়।প্রার্থী জানিয়েছেন বুথে ভোট দিতে বাধা দিচ্ছিল বিজেপি সমর্থকরা। সেসময় বুথ পরিদর্শন করতে আসলে হঠাৎ করেই তাকে আক্রমণ করা হয়। শুধুমাত্র এই প্রার্থীরাই নয় চলতি বিধানসভা নির্বাচনের একজন আকর্ষণীয় এবং উল্লেখযোগ্য নেত্রী সুজাতা মন্ডলকেও আক্রমণ করা হয়েছে। রীতিমতো বাঁশ দিয়ে তাড়া করে প্রায় দীর্ঘ রাস্তা দৌড় করানো হয় এই দাপুটে নেত্রীকে। আরামবাগ বিধানসভা আসন থেকে তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন সুজাতা। এদিন সকাল থেকেই আরামবাগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল।

আরও পড়ুনঃ যাদের ভরসায় আপনি ভোটে লড়তে নেমেছিলেন তারা আর আপনার সঙ্গে নেই। তাই প্রকাশ্যে আপনাকে বলতে হচ্ছে, মুসলমান একজোট হও; ভোটের প্রচারে এসে মমতাকে কটাক্ষ মোদির

এদিন সুজাতা মন্ডল দাবি করেন আরামবাগের বেশ কয়েকটি বুথ দখল করে নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। পাশাপাশি কিছু জায়গায় ইভিএমে তৃণমূলে ভোট দিলেও তা চলে যাচ্ছে বিজেপিতে। এর আগেও প্রথম দফার ভোটে কয়েকটি কেন্দ্র থেকে এই অভিযোগ সামনে এসেছিল। কিন্তু সেই সময়ে নিজস্ব কর্মকাণ্ড কমিশনের পক্ষে এই অভিযোগ খারিজ করে দেওয়া হয়। তৃণমূল প্রার্থী সুজাতা মন্ডল এর কথায়,”আরামবাগে একাধিক বুথের দখল নিয়েছে বিজেপি। যে সব বুথে আমরা শক্তিশালী সেখানে তৃণমূলে ভোট দিলে বিজেপিতে চলে যাচ্ছে”। এর পরেই সমস্যা জর্জরিত কিছু বুথ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন সুজাতা। এমতাবস্থায় হঠাৎ করেই আরান্ডি এলাকায় তাঁকে বাঁশ নিয়ে তাড়া করেন স্থানীয়রা। যদিও সুজাতার দাবি তারা কেউই স্থানীয় বাসিন্দা নন। সকলেই বহিরাগত অথবা বিজেপি সমর্থক। এই ঘটনায় সুজাতার এক এজেন্ট মাথায় বাঁশের বাড়ি খেয়ে আহত হয়েছেন। জমির উপর দিয়ে কোন রকমে দৌড়ে প্রাণে বেঁচেছেন সুজাতা।

আরও পড়ুনঃ বিজেপি কর্মীর মৃত্যুতে চাঞ্চল্য দুবরাজপুরে নেপথ্যে তৃণমূল, অভিযোগ বিজেপির

যদিও এই প্রসঙ্গে এখনো পর্যন্ত সুজাতার আইনত স্বামী তথা সৌমিত্রর বক্তব্য,”বছরের পর বছর স্থানীয় মানুষকে ভোট দিতে দেয়নি তৃণমূল। পঞ্চায়েত নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে কিছু জায়গায় নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা গিয়েছিল। সেখানে বিজেপি জিতেছে। লোকসভা নির্বাচনে আরামবাগে মানুষ বিজেপির পক্ষেই ভোট দিয়েছিল। দিনের পর দিন ভোট দিতে না পেরে মানুষের মনে সঞ্চিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়েছে। তৃণমূলের অত্যাচারের জবাব দিচ্ছে সাধারণ মানুষ“। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যদিও সুজাতা বিজেপি সমর্থকদের ওপর তাকে আক্রমণ করার অভিযোগ জানিয়েছেন, কিন্তু অপরদিকে সেই এলাকার স্থানীয় গ্রামবাসীরা দাবি করেছেন,গ্রামে ঢুকে এক নববধূর হেঁশেলে তাণ্ডব চালান সুজাতা।রীতিমতো সেই মহিলাকে নিগ্রহ করা হয়।সেই জন্যই স্থানীয় বাসিন্দাদের কোপের মুখে পড়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী।অপরদিকে আজ উলুবেরিয়া আসনের বিজেপি প্রার্থীকেও হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ।সেই আসনে তৃণমূল বিজেপির সংঘর্ষে এক বিজেপি কর্মী আহত হলে তাকে হাসপাতালে দেখতে উপস্থিত হন স্থানীয় বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী। সেই সময় থাকে নানা রকম ভাবে হেনস্থা করে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীরা। এমনকি তাকে কিল চড় ঘুষি মারা হয় বলেও অভিযোগ জানিয়েছেন নেত্রী।